রাজারহাট–গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। (Aditi Munshi)তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়িকা অদিতি মুন্সী এবং তাঁর স্বামীকে ঘিরে জমি কেনাবেচা ও সম্পত্তি ঘোষণার অসঙ্গতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী শিবিরের নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকাজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে এটি কি শুধুই প্রশাসনিক ভুল, নাকি এর আড়ালে রয়েছে বড় কোনও গোপন তথ্য?
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচনী হলফনামা এবং সরকারি জমির নথির মধ্যে অসামঞ্জস্য। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি পোর্টাল যেমন বাংলারভূমি এবং পশ্চিমবঙ্গ রেজিস্ট্রেশন পোর্টালের তথ্য বলছে, জগদীশপুর মৌজায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির মালিকানা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পত্তির উল্লেখ নাকি নির্বাচনী হলফনামায় নেই। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে এই তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না।
আরও দেখুনঃ হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি পঞ্জাব – রাজস্থান
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে জমি হস্তান্তরের সময় নিয়ে। অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে, ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে একসঙ্গে একাধিক বড় সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা উপহার দেওয়া হয়েছে। কালিম্পং ও রাজারহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমি একদিনে স্থানান্তর হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এটি কি নিছক কাকতালীয় ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত পদক্ষেপ এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
যাদের কাছে এই সম্পত্তিগুলি হস্তান্তর করা হয়েছে, তাঁদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানব পাত্র ও মানবী পাত্র নামে দুই ব্যক্তির কাছে সম্পত্তি গিয়েছে বলে অভিযোগ, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে বিধায়িকার সম্পর্ক কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিরোধীদের দাবি, এই লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে আর্থিক হিসাব নিয়ে। যদি এত বিপুল সম্পত্তি বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ কোথায় গেল? নির্বাচনী হলফনামায় বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই টাকার প্রতিফলন কেন দেখা যাচ্ছে না এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। ঘোষিত আয় ও সম্পত্তির পরিমাণের মধ্যে বড় ফারাক থাকলে তা আইনগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, Representation of the People Act 1951 অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী যদি সম্পত্তির তথ্য গোপন করেন বা ভুল তথ্য দেন, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একইভাবে, মিথ্যা হলফনামা দেওয়াও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে, যা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় বিচারযোগ্য।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিধায়িকা বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণ অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মত, “আমরা সত্য জানতে চাই। যদি সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রকাশ্যে আসুক। আর যদি কোনও অসঙ্গতি থাকে, তাহলে তারও সঠিক তদন্ত হোক।” গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা এই দুই বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই কারণেই এই প্রশ্নগুলো এখন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।




















