উত্তরবঙ্গে নির্বাচন আবহে মোতায়েন ৭৮৮ কোম্পানি কেন্দ্রিয় বাহিনী

শিলিগুড়ি: রাত পোহালেই প্রথম দফা নির্বাচন। তার আগেই শিলিগুড়িতে প্রশাসনের তরফে প্রস্তুতির চূড়ান্ত ছবি সামনে এল। (North Bengal election)আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কোনওরকম…

788-companies-central-forces-north-bengal-election-security-siliguri

শিলিগুড়ি: রাত পোহালেই প্রথম দফা নির্বাচন। তার আগেই শিলিগুড়িতে প্রশাসনের তরফে প্রস্তুতির চূড়ান্ত ছবি সামনে এল। (North Bengal election)আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কোনওরকম খামতি রাখতে নারাজ প্রশাসন। উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত মহানির্দেশক (এডিজি) কে জয়ারামন জানালেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবকিছুই আমরা করেছি। আজ থেকেই নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন হয়ে গেছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গোটা উত্তরবঙ্গে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মোট ৭৮৮ কোম্পানি সিএপিএফ (কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী) বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র শিলিগুড়ি শহরের জন্যই রাখা হয়েছে ৪৫ কোম্পানি বাহিনী।

   

আরও দেখুনঃ ৬৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ৫০এমপি সেন্সর সহ লঞ্চ হল দারুণ ফোন

এই বিপুল বাহিনী মোতায়েনের উদ্দেশ্য একটাই ভোট যেন কোনওরকম অশান্তি বা ভয়ভীতি ছাড়াই সম্পন্ন হয়। জয়ারামন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বাহিনীর প্রায় ৯০ শতাংশই নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে, বাকি ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে নিয়মিত থানার কাজের জন্য। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, এবারের ভোটে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কিছু এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতে অতিরিক্ত কিউআরটি (কুইক রেসপন্স টিম) রাখা হয়েছে। যাতে কোনও বিক্ষোভ বা অশান্তি তৈরি হলে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে কোনওভাবেই ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না। যদি এমন কোনও অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জয়ারামনের কথায়, “আমরা নিশ্চিত করব যাতে কেউ বেআইনি কাজ করতে না পারে। ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি করা বা ভয় দেখানোর মতো কোনও ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।”

নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বুথের আশপাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি টহলদারি জোরদার করা হয়েছে। এই সমস্ত ব্যবস্থার ফলে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও জানাচ্ছেন, এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি কড়া। ফলে অনেকেই নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যাওয়ার কথা ভাবছেন। বিশেষ করে মহিলা ও প্রবীণ ভোটারদের জন্য এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।