নীরব মোদী কেসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন! ত্রিপুরা পুলিশের ডিজিপি ধনকরের রহস্য মৃত্যুতে জল্পনা

আগরতলা: ত্রিপুরা পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (Tripura) অনুরাগ ধনকরের রহস্যময় মৃত্যু। এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুর রাজ্যে। সোমবার সকালে পুলিশ সদর…

tripura-dgp-anurag-dhankar-death

আগরতলা: ত্রিপুরা পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (Tripura) অনুরাগ ধনকরের রহস্যময় মৃত্যু। এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুর রাজ্যে। সোমবার সকালে পুলিশ সদর দফতরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অনুরাগ ধনকর দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

নীরব মোদী মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ১৯৮৪ সালের শিখ সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যার তদন্তে এসআইটির নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি।ঘটনাটি ঘটেছে আগরতলার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে। সকালে অফিসে আসার পর কোনো এক সময় তিনি নিজের চেম্বারে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।

আরও দেখুনঃ নাগাল্যান্ডে অসম রাইফেলসের গাড়িতে IED বিস্ফোরণ! গুরুতর জখম ৪ জওয়ান

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধারের পর ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সঠিক কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে কোনো সন্দেহজনক বহিরাগতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শীঘ্রই একটি বিবৃতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুরাগ ধনকর ছিলেন একজন অভিজ্ঞ ও সৎ পুলিশ অফিসার। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন রাজ্যে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিবিআইয়ে থাকাকালীন নীরব মোদী পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির মামলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই মামলায় বিদেশে পালিয়ে যাওয়া হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদীর বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহে তাঁর নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়।

এছাড়া ১৯৮৪ সালের দিল্লি শিখ গণহত্যার তদন্তেও তিনি বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) নেতৃত্ব দেন। সেই সময়কার সংবেদনশীল মামলায় নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।সহকর্মীরা তাঁকে একজন নির্ভীক ও নিষ্ঠাবান অফিসার হিসেবে স্মরণ করছেন। একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, “অনুরাগ স্যার সবসময় দায়িত্বের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।

চাপের মুহূর্তেও তিনি শান্ত থাকতেন। তাঁর এমন আকস্মিক প্রয়াণ আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে।” ত্রিপুরায় ডিজিপি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন। স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

আরও দেখুনঃ সেভেন সিস্টার স্বাধীন হওয়া উচিত, আমরা করবই! প্রকাশ্যে হুমকি জামাত নেতার

কেউ কেউ বলছেন, হয়তো কোনো ব্যক্তিগত চাপ বা পেশাগত ক্লান্তি কাজ করেছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সিনিয়র অফিসার হিসেবে তিনি অনেক সংবেদনশীল মামলা দেখেছেন, যা মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ঘরে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলছে। পরিবারের সদস্যরা এখনও শোকে মুহ্যমান। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সান্ত্বনা দিতে সহকর্মীরা ছুটে গেছেন।