শনির চাঁদে জীবনের চিহ্ন, বিজ্ঞানের প্রাচীনতম নিয়ম ভেঙে দিল এই আবিষ্কার

ওয়াশিংটন, ১৯ অক্টোবর: সুইডেনের চালমারস ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি এবং নাসার (NASA) বিজ্ঞানীরা শনির বৃহত্তম উপগ্রহ (Saturn Moon) টাইটানের উপর একটি বড় এবং অনন্য আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কার রসায়নের ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Saturn Moon Titan

ওয়াশিংটন, ১৯ অক্টোবর: সুইডেনের চালমারস ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি এবং নাসার (NASA) বিজ্ঞানীরা শনির বৃহত্তম উপগ্রহ (Saturn Moon) টাইটানের উপর একটি বড় এবং অনন্য আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কার রসায়নের দীর্ঘস্থায়ী তত্ত্বগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে। তাদের গবেষণা থেকে দেখা যায় যে টাইটানের অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় (প্রায় -১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস), যেসব পদার্থ সাধারণত মিশে না, সেগুলো একত্রিত হয়ে নতুন ধরণের স্ফটিক তৈরি করতে পারে। টাইটানের বায়ুমণ্ডল ঘন নাইট্রোজেন এবং মিথেন দিয়ে ভরা। এর হ্রদ এবং টিলাগুলি অদ্ভুত কমলা রঙের দেখায়, যা কোটি কোটি বছর আগের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কথা মনে করিয়ে দেয়।

এই আবিষ্কার কেন অনন্য?
বিজ্ঞানীরা হাইড্রোজেন সায়ানাইড (HCN) নামক একটি অণুর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন। এই অণুটি টাইটানের বায়ুমণ্ডলে উচ্চ ঘনত্বে পাওয়া যায় এবং এটি মেরু। তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন কিভাবে এই অণুগুলি মিথেন এবং ইথেনের মতো অ-মেরু উপাদানের সাথে একত্রিত হয়। রসায়নের পুরনো নিয়ম অনুসারে, তেল এবং জলের মতো মেরু এবং অ-মেরু পদার্থগুলি মিশে না।

   

বিজ্ঞানীরা কীভাবে এই আবিষ্কার করলেন?
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং বৃহৎ আকারের কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করে, বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে হাইড্রোকার্বন অণুগুলি হাইড্রোজেন সায়ানাইড স্ফটিক ভেদ করে নতুন এবং শক্তিশালী পদার্থ তৈরি করে। PNAS জার্নালে প্রকাশিত এই আবিষ্কারটি কেবল অভিন্ন দ্রাব্যতার নিয়মকেই অস্বীকার করে না, বরং এটিও পরামর্শ দেয় যে অণুগুলির মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়া টাইটানের পৃষ্ঠ এবং এর অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যগুলির গঠনে জড়িত থাকতে পারে।

এই আবিষ্কার কী অন্তর্দৃষ্টি প্রকাশ করেছে?
এত কঠোর এবং প্রতিকূল পরিবেশে এর রসায়ন বোঝা জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও গভীর করে। এই গবেষণা শুরু হয় যখন নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি চামার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে। খুব কম তাপমাত্রায় মিথেন এবং ইথেনের সাথে হাইড্রোজেন সায়ানাইড মিশিয়ে নাসা অপ্রত্যাশিত ফলাফল পেয়েছিল, যার ব্যাখ্যা প্রয়োজন ছিল।

নাসার পরবর্তী অভিযান কী?
নাসার ড্রাগনফ্লাই অভিযান ২০৩৪ সালে টাইটানে পৌঁছাবে এবং এই সমস্ত নতুন তথ্য ভবিষ্যতের অনুসন্ধানে সহায়তা করবে। এই ফলাফলগুলি ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবীর বাইরে ঠান্ডা স্থানেও অনন্য রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি জীবন গঠনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এটি মহাবিশ্বে কোথা থেকে এবং কীভাবে জীবনের উৎপত্তি হতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও উন্নত করবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google