ডাকিনী বিতাড়ন মন্ত্রে নবান্নের শুদ্ধিকরণ দাবি তথাগতের

কলকাতা: গত ৪ তারিখের গেরুয়া সুনামিতে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। (Tathagata Roy)বাদ যাননি সুপ্রিমো তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই আবহেই ক্ষমতায় এসে বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন নয় পুরোনো ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
nabanna-purification-tathagata-roy-writers-building-shift

কলকাতা: গত ৪ তারিখের গেরুয়া সুনামিতে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। (Tathagata Roy)বাদ যাননি সুপ্রিমো তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই আবহেই ক্ষমতায় এসে বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন নয় পুরোনো রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই পরিচালনা হবে সরকারের কাজ। এই সিদ্ধান্তে খুশি বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তিনি বলেন নবান্নকে ডাকিনী বিতাড়ন মন্ত্র দিয়ে শুদ্ধিকরণ করতে হবে।

তিনি খোলাখুলি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, রাইটার্স বিল্ডিং শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়, এটি বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক। তথাগত রায় আরও প্রস্তাব দেন, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘মহাকরণ’ বা ‘সচিবালয়’ রাখা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, একটি দেশীয় নাম ভবনের ঐতিহ্য ও মর্যাদাকে আরও সুসংহত করবে। এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

   

তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর আরেকটি মন্তব্যকে ঘিরে। নবান্ন ভবন সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার সেখান থেকে সরে যাওয়ার পর ভবনটির “প্রতীকী শুদ্ধিকরণ” প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরোহিত ডেকে ‘ডাকিনী-বিতাড়ন মন্ত্র’ পাঠ করে, দুধ ও গঙ্গাজল দিয়ে এই শুদ্ধিকরণ করা যেতে পারে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই ধরনের বক্তব্য যুক্ত হওয়া উচিত নয়।

আরও দেখুনঃ গোহারা হেরেই হাতে গেরুয়া ঝান্ডা ধরলেন বারাসাতের সব্যসাচী

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক স্থান পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রতীকী ও আদর্শগত বার্তা। রাইটার্স বিল্ডিং-এ ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘ঐতিহ্যে ফেরা’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের মাধ্যম বলেও মনে করছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই নবান্ন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে রাইটার্স বিল্ডিং ছিল ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে বহু দশক ধরে বাংলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। সেই ঐতিহ্যের দিকেই ফেরার সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি সরকার দ্রুত এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করবে? এবং যদি করে, তাহলে তা কতটা সময়সাপেক্ষ হবে? পাশাপাশি তথাগত রায়ের মন্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উস্কে দেবে কিনা, সেটাও দেখার বিষয়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google