মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি-২ ব্লকের দেবীপুর গ্রামের একটি বুথে ভোটার তালিকা থেকে একসঙ্গে ৪৩২ জনের নাম বাদ পড়েছে। (voter list deletion) এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বাদ যায়নি ভারতের সীমান্ত রক্ষাকারী BSF জওয়ানও। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুনানির পর এই ব্যাপক নাম কাটার ঘটনা ঘটেছে। একই বুথে প্রায় ৯৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫৩৯ জনের নাম অ্যাডজুডিকেশনের আওতায় আনা হয়েছিল।
তার মধ্যে মাত্র ১০৭ জনের নাম রাখা হয়েছে, বাকি ৪৩২ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় এক ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার পরিবার থেকে তিনজনের নাম কাটা গেছে। আমার বড় ভাই আব্দুল বারি ২০১১ সাল থেকে বিএসএফ-এ চাকরি করছেন। তিনি দেশের সীমান্ত রক্ষা করেন, অথচ তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
আরও দেখুনঃ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নতুন প্রজন্মের বন্দুকের জন্য জারি করল RFI
সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এমন হলো, কেউ বলছে না।” তিনি আরও জানান, চারদিন আগে তাঁরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ডেপুটি কমিশনার ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের অফিসে গিয়ে সব নথি দেখিয়েছেন। ১৯৪৭ সালের আগের জমির দলিল পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। অফিসাররা কাগজ দেখে চুপ করে থেকেছেন, কোনো স্পষ্ট কারণ দেননি।দেবীপুর গ্রামের এই বুথটি মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।
স্থানীয়রা বলছেন, এখানে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ডাক্তার, আইনজীবী, অধ্যাপক, বাংলা পুলিশের এএসআই এবং বিএসএফ জওয়ানের মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের নামও বাদ পড়েছে। একই পরিবার থেকে দুই ডাক্তারের নাম কাটা যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। অনেকে অভিযোগ করছেন, এটা কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে কিছু এলাকার ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম অ্যাডজুডিকেশনের আওতায় এসেছিল। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রায় ১১ লক্ষ কেস। মালদা জেলাও পিছিয়ে নেই। ৭০৫ জন বিচারকের মাধ্যমে মাধ্যমে এই শুনানি চলেছে। কমিশনের দাবি, যাদের নথি অসম্পূর্ণ বা সন্দেহজনক, তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে ভুয়ো ভোটার না থাকে।




















