মোথাবাড়ি: মালদহের মোথাবাড়িতে গতকাল রাত থেকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। (Mothabari violence)SIR প্রক্রিয়াতে নাম কাটার প্রতিবাদে রাস্তা আটকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের শারীরিক হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই আবহেই নতুন মোড় নিল পুলিশের তদন্ত। বিশ্বস্ত সূত্রের উপর ভিত্তি করে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর মোথাবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান আলি কাদরিকে। সূত্রের খবর বলছে এই কাদরি হিংসায় উস্কানি দেওয়ার মূল পান্ডা।
তাঁর সঙ্গে আরও ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে, যখন নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছে এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নাম কাটা নিয়ে অসন্তোষ থেকে। মালদহের কালিয়াচক এলাকায় বুধবার বিকেলে প্রতিবাদকারীরা সাতজন বিচারপতিকে প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রেখেছিলেন। যার মধ্যে একজন মহিলা বিচারপতিও ছিলেন।
আরও দেখুনঃ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে প্রতারক বলে কটাক্ষ ক্রীড়া মন্ত্রীর
তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবাদকারীরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন, এমনকি সেনাবাহিনীর ট্রাকও আটকে দিয়েছিলেন। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরে হস্তক্ষেপ করে আধিকারিকদের উদ্ধার করে মালদহ শহরে নিয়ে আসে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই হিংসা এবং অশান্তির মূল উস্কানিতে ছিলেন শাহজাহান আলি কাদরী। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর দুই ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়।
আইএসএফ দলের দাবি, পুলিশ জোর করে দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে গ্রেফতার করেছে এবং এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। দলের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে যাতে তিনি নমিনেশন ফাইল করতে না পারেন। শাহজাহান আদালতে পেশ করার সময় সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আইএসএফ প্রার্থী বলেই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”এই গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মালদহসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পুলিশ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, এটি বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখানোর পূর্বপরিকল্পিত চেষ্টা। আদালত রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে এবং CBI তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
আইএসএফ এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে মনে করছে। ISF নেতারা অভিযোগ করছেন সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দল অভিযোগ করছে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পুলিশ দায়িত্বে থাকলেও নীরব কেন তাও প্রশ্ন তুলেছে।




















