কলকাতার ক্রীড়া সংস্কৃতিতে ডার্বি মানেই আলাদা উত্তেজনা, আর সেই আবহে হকি মাঠেও রবিবার তৈরি হল তেমনই এক স্মরণীয় লড়াই (Hockey Derby)। যুবভারতীর হকি স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দাপট দেখাল মোহনবাগান। ম্যাচের শুরু থেকেই সবুজ-মেরুন শিবির যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামেছিল, তারই প্রতিফলন দেখা গেল পুরো খেলাজুড়ে।
ডার্বির আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের পর থেকেই মোহনবাগান শিবিরে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ছিল। কোচ সিমরণজিৎ সিং স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ডার্বিতে তাঁর দল মাঠেই জবাব দেবে। সেই কথারই বাস্তব রূপ দেখা গেল এদিনের ম্যাচে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে মোহনবাগান, যার ফলে ইস্টবেঙ্গলকে বেশিরভাগ সময়ই রক্ষণাত্মক থাকতে হয়।
মোহনবাগানের জয়ের নায়ক নিঃসন্দেহে ববি সিং ধামি। তাঁর জোড়া গোল দলকে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। প্রথমার্ধেই তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোল করে দলকে লিড এনে দেন। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও একটি গোল করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন।
এছাড়া মহম্মদ রাহিল এবং শ্রেয়াস ধুপেও একটি করে গোল করে দলের জয়ের ব্যবধান বাড়ান। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল চেষ্টা করেও ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাদের একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি আসে সিমরনজোৎ সিং-এর স্টিক থেকে। তবে সেই গোল ম্যাচের ফলাফল বদলাতে পারেনি। আক্রমণে ধার না থাকায় এবং মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই ইস্টবেঙ্গলকে বারবার চাপে পড়তে হয়।
ম্যাচের পরিবেশও ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই দলের সমর্থকদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম জমে ওঠে। তবে সংখ্যার দিক থেকে মোহনবাগান সমর্থকরাই এগিয়ে ছিলেন। গ্যালারিতে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে সদ্য প্রয়াত ‘মোহনবাগান দিদা’ শান্তি চক্রবর্তীকে স্মরণ করে তৈরি করা টিফো, যা আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে।
ম্যাচ শেষে ববি সিং ধামি বলেন, ডার্বিতে জয় পাওয়া সবসময়ই বিশেষ, কারণ এই ম্যাচের গুরুত্ব অন্যরকম। তিনি আরও জানান, দলের লক্ষ্য এখন ট্রফি জেতা এবং এই জয় সেই পথে বড় আত্মবিশ্বাস যোগাবে। সব মিলিয়ে, এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে মোহনবাগান স্পষ্ট বার্তা দিল—ডার্বিতে তারাই এখন এগিয়ে।



















