ঢাকা: ফের বাংলাদেশে অত্যাচারিত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। (Bangladesh)সিলেটের এক নিরীহ হিন্দু ব্যবসায়ী খগেন্দ্র কুমার দাসের উপর নৃশংস হামলার ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে। স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে, রাকিব নামের এক ব্যক্তি এবং তার সহযোগীদের একটি দল খগেন্দ্রকে তার দোকানে ঘিরে ধরে মারধর করে, লুটপাট চালায় এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে সমাজের সামনে অপমান করে। কারণ?
তিনি জিজিয়া কর নামে পরিচিত এক ধরনের ‘সুরক্ষা কর’ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশজুড়ে চলতে থাকা অস্থিরতার একটি ভয়ানক প্রতিফলন।খগেন্দ্র কুমার দাস দীর্ঘদিন ধরে সিলেট এলাকায় তার ছোট ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সাধারণ একজন মানুষ, যিনি পরিবার নিয়ে শান্তিতে জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় কিছু উগ্রপন্থী গ্রুপ তাকে চাপ দিয়ে আসছিল। জিজিয়া কর না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দিত তারা এমনটাও অভিযোগ উঠেছে।
আরও দেখুনঃ কোরবানি দিতে না চেয়ে খুন হওয়া সূর্যের খুনি আসাদকে গুলি করে মারল যোগী পুলিশ
খগেন্দ্র প্রথমে চুপচাপ সহ্য করেছিলেন, কিন্তু যখন চাপ বাড়তে থাকে এবং অর্থ দেওয়া সম্ভব হয় না, তখন তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই ঘটে যায় সেই ভয়াবহ ঘটনা।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকিব ও তার সঙ্গীরা খগেন্দ্রকে দোকান থেকে টেনে বের করে প্রকাশ্যে মারধর শুরু করে। লাঠি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। শুধু তাই নয়, তাকে ছোট শিশুকে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ এবং ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতাকে একত্রিত করা হয়।
এই মিথ্যা অভিযোগগুলো সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে হামলা ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে মনে হয়। খগেন্দ্রকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে তার দোকান লুট করা হয়। স্থানীয় হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে, কিন্তু শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির গভীরতা অনেক।এই ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া বিশেষ করে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে দিপু দাসের মত হিন্দুদের প্রাণ নেওয়া এবং জমি দখলের মতো ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। অনেক হিন্দু পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জিজিয়া করের মতো মধ্যযুগীয় ধারণা ফিরিয়ে আনার দাবি কিছু উগ্র গোষ্ঠী থেকে উঠছে, যা স্পষ্টতই সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করার চেষ্টা।



















