ঢাকা: বাংলাদেশের ধর্মীয় সহাবস্থান নিয়ে নতুন করে ছড়িয়েছে উদ্বেগ (Hindu students)। গাইবান্ধা জেলায় প্রভু রামের অবমাননার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু শিক্ষার্থীরা রাতে একটি বড় প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। গাইবান্ধা জেলায় দেশের সবচেয়ে বড় রামের মূর্তি নির্মাণ নিয়ে আগেই ছড়িয়েছিল চাঞ্চল্য। এমনকি ইসলামপন্থীদের খুশি করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত করে দেন বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে।
News coming in from #Dhaka of #Bangladesh.
Tonight, Hindu students of Jagannath University organised a protest rally against the insult of Prabhu Ram by the Muslim mob.
Yesterday, in a rally in Gaibandha district, Muslim mob openly insulted Prabhu Sri Ram. The Muslim mob also… pic.twitter.com/gWvfPvqyZt
— Hindu Voice (@HinduVoice_in) June 13, 2026
এই আবহেই গতকাল গাইবান্ধায় একটি সমাবেশে মুসলিম জনতা প্রকাশ্যে প্রভু রামকে অপমান করে এবং হিন্দু-বিরোধী উস্কানিমূলক স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু শিক্ষার্থীরা মিছিল করে বলেন, “আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে। প্রভু রামের অবমাননা আমরা মেনে নেব না।”
আরও দেখুনঃ১২টার ডেডলাইনের আগে তড়িঘড়ি বেরিয়ে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নামেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলায় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে বিশাল রাম মূর্তি নির্মাণের কাজ চলছিল। কিন্তু স্থানীয় কিছু মুসলিম গোষ্ঠী এটিকে ‘হিন্দুত্ববাদী প্রতীক’ বলে আখ্যায়িত করে বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে মন্দির কর্তৃপক্ষকে নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখতে হয়।স্থানীয় সূত্র অনুসারে, গাইবান্ধার ওই সমাবেশে মুসলিম জনতা রামের নামে অশালীন মন্তব্য করে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ স্লোগান দেয়।
এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, “একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু বারবার আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে। রাম মূর্তি নির্মাণ আমাদের নিজস্ব জমিতে, নিজস্ব অর্থে হচ্ছিল। তবু বাধা দেওয়া হলো।” এ ঘটনায় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘুদের উপর চাপ বেড়েছে।
মন্দিরে হামলা, জমি দখল এবং ধর্মীয় উৎসবে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বেড়েছে। গাইবান্ধার ঘটনায় মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহান্ত জানিয়েছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে নির্মাণ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে হিন্দু কর্মীরা বলছেন, এটি চাপের কাছে নতি স্বীকার। তাঁরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাছে নত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ মিছিলে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেন। তাঁরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে হাঁটেন এবং ধর্মীয় সহনশীলতার দাবি জানান।
