পালিয়ে লাভ হল না! যোগী রাজ্যে গ্রেফতার অনুপ্ৰবেশকারীদের ভোটার তালিকায় জায়গা দেওয়া তৃণমূল নেতা

বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দুর্নীতি পরায়ণ খোকন দাস (Khokon Das)পুলিশের জালে। উত্তর প্রদেশের মোগলসরাই, বর্তমানে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন এলাকা থেকে তাকে আটক ও গ্রেফতার করা ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
khokon-das-arrest

বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দুর্নীতি পরায়ণ খোকন দাস (Khokon Das)পুলিশের জালে। উত্তর প্রদেশের মোগলসরাই, বর্তমানে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন এলাকা থেকে তাকে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে মারধর, সরকারি ত্রাণসামগ্রী এবং সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে আত্মসাৎ ও মজুত করে রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে খোকন দাসের বাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট গুদামঘরে তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীদের বক্তব্য। পাশাপাশি ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির উৎস এবং ব্যবহার নিয়ে তদন্ত চলছে।

   

আরও দেখুনঃ চড়-থাপ্পড় ও ডিম নিক্ষেপে উত্তপ্ত সোনারপুর, অভিষেক হেনস্থায় গ্রেপ্তার ৪

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, তল্লাশির পর থেকেই খোকন দাসকে খোঁজা হচ্ছিল। অভিযোগ, তদন্তের অগ্রগতির মধ্যেই তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর উত্তর প্রদেশের মোগলসরাই এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। বর্তমানে স্থানীয় আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাঁকে পূর্ব বর্ধমানে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

এদিকে খোকন দাসকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। বর্ধমানে অনুষ্ঠিত একটি দলীয় সভায় তিনি নাকি এমন একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সভায় তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে দাবি বিভিন্ন মহলের।

এই মন্তব্যের পরই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তীব্র আপত্তি জানায়। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। দলটির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয় এবং খোকন দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিও জানানো হয়। বিজেপির বক্তব্য, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত এ নিয়ে যথাযথ তদন্ত করা।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলকে নিশানা করতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাক্তন এক বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধরনের অভিযোগ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে খোকন দাসকে ঘিরে ওঠা সমস্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে উদ্ধার হওয়া নথি ও সামগ্রী খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী পথচলা।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google