কলকাতা: শনিবার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উপর হামলার ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিজেপি নেতা এবং পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেন তিনি।
পিটিআই-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি যখন হাসপাতালের প্রশাসক মিস্টার ট্যান্ডনের সঙ্গে বসেছিলাম, তখন তিনি অনুরোধ করছিলেন। কারণ, বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশ তাঁকে হুমকি ফোন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।”
“ডাক্তাররা ভর্তি করতে চাইলেও বাধা দেওয়া হয়েছে”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সেই সময় হাসপাতালের প্রশাসক কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসি-র সঙ্গে কথা বলছিলেন। একই সঙ্গে বিজেপি নেতারাও চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর কথায়, “বিজেপি নেতারাও নাকি তাঁকে হুমকি দিচ্ছিলেন যে, ডাক্তাররা ভর্তি করার পরামর্শ দিলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্তি করা যাবে না, কারণ সেটাই সরকারের ইচ্ছা।”
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
বাড়িতেই চিকিৎসার ব্যবস্থা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, স্যালাইন দেওয়ার পর এবং পারিবারিক চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “পারিবারিক চিকিৎসকরাই এখন বাড়িতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে কী হচ্ছে আমি জানি না।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ঘটনাকে পরিকল্পিত আক্রমণ বলে দাবি করা হলেও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে বিজেপি নেতা অর্জন সিং (Arjun Singh) এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) এই ঘটনায় তৃণমূলকে পাল্টা আক্রমণ করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা এবং হাসপাতাল বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















