ধর্নামঞ্চে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন অপমান। ২০২৬ র বিধানসভা নির্বাচনে টিকিটও পাননি। তার বদলে এবার প্রার্থী তৃণমূলের তৃণাঙ্কুর। তাই অভিমানে দল ছাড়লেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক মঞ্জু বসু। নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে মঞ্জু বসু মোট ৩ বার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১, ২০১১ এবং ২০২১ এ তিনি বিধায়ক হিসেবে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মঞ্জু বসুর স্বামী প্রয়াত বিকাশ বসু ২০০০ সালে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন হয়েছিলেন।
সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নাম উঠে এসেছিল বিজেপি নেতা তৎকালীন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা অর্জুন সিংয়ের। বিকাশ বসুর মৃত্যুর পর থেকেই নোয়াপাড়ার ব্যাটন হাতে নিয়েছিলেন মঞ্জু বসু। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন মঞ্জু বসু। তাঁকে হারিয়ে দেন কংগ্রেসের মধুসূদন ঘোষ। তখন থেকেই দলের অন্দরে ব্রাত্য হয়ে পড়েন মঞ্জু।
২০১৭ সালের অগাস্টে মধুসূদন ঘোষ মারা যান। ২০১৮ সালের শুরুতে নোয়াপাড়ায় উপনির্বাচন হয়। উপনির্বাচনে সুনীল সিংকে প্রার্থী করে তৃণমূল। সূত্রের খবর, তারপরেই মঞ্জু বসুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপি। কয়েকদফার বৈঠকের পর প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এরপর ছিল বড় চমক। প্রার্থী ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিকদের ডেকে মঞ্জু বসু জানান যে তিনি বিজেপির হয়ে ভোটে লড়বেন না।
তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলাম, আছি।” সূত্রের খবর, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুর নাম ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসে তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা নেতৃত্ব। তড়িঘড়ি ইছাপুর গোয়ালাপাড়ায় তাঁর বাড়িতে ছোটেন শীর্ষনেতারা। সেখানেই বৈঠকের পর বিজেপির প্রার্থী না হওয়ার কথা জানান বিকাশ বসুর স্ত্রী। সেই ঘটনায় মুখ পুড়েছিল বঙ্গ বিজেপির।
সরকারিভাবে দলে যোগদান না করিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করানোয় প্রশ্নের মুখে পড়েন মুকুল রায়। সম্প্রতি SIR কে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন মঞ্জু। তবে মমতা প্রণাম করতে বাধা দেন তাকে। এই ঘটনায় অপমানিত বোধ করেছিলেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক। আজ শনিবার তিনি ঢাক ঢাক গুড়গুড় না করে সরাসরি জানালেন তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত।




















