রাজ্যপালের আনন্দ কেড়ে নিল আদালত? মমতার মুখে যুদ্ধ জয়ের হাসি সুপ্রিম অর্ডারে

এবার উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজভবন বনাম নবান্নের (Mamata Banerjee) সংঘাতে নতুন মোড়। এককথায় বলা যেতে পারে সুপ্রিম কোর্টের নয়া নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) পছন্দকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হল। ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us

এবার উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজভবন বনাম নবান্নের (Mamata Banerjee) সংঘাতে নতুন মোড়। এককথায় বলা যেতে পারে সুপ্রিম কোর্টের নয়া নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) পছন্দকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হল। যার ফলে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যায় গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে চ্যান্সেলর তথা রাজ্যপালের মতামত এবং সিদ্ধান্তের গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত যেটাকে নৈতিক জয় হিসাবেই দেখছে রাজ্যের শাসক শিবির।

সুপ্রিম কোর্টের নয়া নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তৈরি হবে এই সার্চ কমিটি। যাঁদের লক্ষ্যই হবে উপাচার্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এক্ষেত্রে সার্চ কমিটি প্রত্যেকটি পদের জন্য তিনজনের একটি নামের প্যানেল জমা দেবে। এই প্যানেল জমা পড়বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) কাছে।

   

মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) সেখানে তাঁর পছন্দের ক্রম অনুসারে নামগুলিকে সাজিয়ে পুনরায় প্যানেল ফেরত পাঠাবেন। এমনকী তিনি চাইলে এর সঙ্গে কোন নোটও যুক্ত করতে পারেন। এবার সেই ক্রমানুসারে সাজানো প্যানেলই যাবে আচার্য তথা রাজ্যপালের কাছে। রাজ্যপালকে সেখান থেকেই নিয়োগ করতে হবে নতুন উপাচার্যকে। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ-অপছন্দ এ ক্ষেত্রে অনেকটাই গুরুত্ব পেতে শুরু করলো বলে মনে করা হচ্ছে।

ভরা আষাঢ়েই হেমন্তের ঝড়! বিধানসভায় প্রবল চাপে বিজেপি?

সাম্প্রতিক সময়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের প্রশাসন এবং রাজ্যপালের মধ্যে দ্বন্দ্বের বেনজির উদাহরণ দেখা গিয়েছে। এমনকী রাতারাতি রাজ্যপালের একতরফাভাবে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করে দেওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে সেই বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে। কিন্তু মাঝখান থেকে দুই পক্ষের বিবাদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যাহত হয়েছে। অন্যান্য প্রশাসনিক কাজগুলিও থেমে রয়েছে উপাচার্যের অভাবে।

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি, গৌড়বঙ্গ, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, সিধু কানহো বিশ্ববিদ্যালয় মত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে কাজকর্ম চলছে কোনও স্থায়ী উপাচার্য ছাড়াই। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে আপাতত সেই অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল।

‘ব্যবস্থা করতে হবে…’, মোদীর মন্ত্রীকে কড়া ‘ধমক’ মমতার

রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু গোটা ঘটনাতে উচ্ছ্বসিত। সুপ্রিম কোর্ট কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি রায়ের অংশটি টুইট করে একে গণতন্ত্রের জয় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে রাজনৈতিকভাবেও এই ঘটনার তাৎপর্য কম নয় সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছেছে। খোদ রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেছেন। একাধিক বিষয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক স্বাধীনতায় রাজ্যপালের অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে বারংবার। এবার সেই আবহেই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় নিঃসন্দেহে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে নিয়ে গেল রাজ্যপালকে। আপাতত তাই রাজ্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরে যুদ্ধজয়ের হাসি।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google