রবিবার, ৩১ মে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে (Second Hooghly Bridge) যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে টানা ৮ ঘণ্টার জন্য। সেতুর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাজনিত গুরুত্বপূর্ণ কাজের কারণে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে ওই সময়ের মধ্যে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রীকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
দ্বিতীয় হুগলি (Second Hooghly Bridge) সেতু, যা বিদ্যাসাগর সেতু নামেও পরিচিত, কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। প্রতিদিন লক্ষাধিক যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে থাকে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, রোগী পরিবহন এবং পণ্যবাহী গাড়ি—সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি একটি প্রধান লাইফলাইন। তাই এই সেতু আট ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুর (Second Hooghly Bridge) কাঠামোগত নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ে ইঞ্জিনিয়ারিং টিম বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা, মেরামতি ও প্রযুক্তিগত পরিদর্শনের কাজ করবেন। এর মধ্যে থাকতে পারে সেতুর কেবল, জয়েন্ট, লোড-বিয়ারিং অংশ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত উপাদানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এই সময়ের মধ্যে সেতু সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় বিকল্প রুট ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। হাওড়া থেকে কলকাতা বা কলকাতা থেকে হাওড়া যাতায়াতকারী (Second Hooghly Bridge) যানবাহনকে হাওড়া ব্রিজ, নিবেদিতা সেতু এবং অন্যান্য নির্ধারিত রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সকাল বেলা অফিস টাইম এবং দুপুর পর্যন্ত চলা যানবাহনের চাপের কারণে এই বিকল্প রাস্তাগুলিতেও যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ডাইভারশন এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া জরুরি পরিষেবার যানবাহন, যেমন অ্যাম্বুলেন্স, দমকল বা পুলিশের গাড়ি তাদের জন্য বিশেষ করিডর রাখার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে, ওই দিন সকাল ৬টার আগে বা দুপুর ২টার পরে যাতায়াত পরিকল্পনা করতে। বিশেষ করে যাঁদের ফ্লাইট, ট্রেন বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে, তাঁদের আগেভাগে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন সংস্থাগুলিকেও রুট পরিবর্তন এবং সময়সূচি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় হুগলি সেতু বন্ধ থাকার কারণে শহরের বিভিন্ন অংশে যানজট বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা যেমন জওহরলাল নেহরু রোড, স্ট্র্যান্ড রোড এবং হাওড়ার সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।




















