মমতা সরকার ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা নিজের হাতে নিলেন রাজ্যপাল

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। (Mamata Banerjee)নির্বাচনে বড় পরাজয়ের মুখে পড়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন রাজ্যপাল আর এন রবি। ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
mamata-banerjee-government-dismissed-after-bengal-election-defeat

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। (Mamata Banerjee)নির্বাচনে বড় পরাজয়ের মুখে পড়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন রাজ্যপাল আর এন রবি। তিনি বিদায়ী তৃণমূল সরকার ও মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্য রাজনীতি যেমন উত্তপ্ত, তেমনই সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।

সূত্রের খবর, ৭ মে তারিখে রাজভবনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল নতুন নির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা জমা দেওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে সরকার গঠনের রাস্তা কার্যত পরিষ্কার হয়ে যায় গেরুয়া শিবিরের জন্য। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর রাজনৈতিক মহল আশা করেছিল যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করবেন এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই ছবি দেখা যায়নি।

   

আরও দেখুনঃ দেশের গোপন খবর পাচারের দায়ে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে আলোচনায় জিনপিং

রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করায় রাজ্যপাল কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হন। ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা রাজ্যপালের সন্তোষ থাকা পর্যন্তই পদে বহাল থাকতে পারেন। কোনো সরকার যদি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তাহলে সেই সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে রাজ্যপাল হস্তক্ষেপ করতে পারেন বলেই সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ মত দিয়েছেন।

এদিকে ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পূর্ববর্তী বিধানসভার পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদও ৭ মে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। অর্থাৎ পুরনো বিধানসভা এমনিতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হওয়ার পথে ছিল। ফলে প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে দ্রুত নতুন সরকার গঠন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই রাজ্যপালের এই পদক্ষেপকে অনেকেই সাংবিধানিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

বিজেপি ইতিমধ্যেই সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদারের নাম ঘুরছে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে “গণতন্ত্রের উপর আঘাত” বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় চাপ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, জনগণ স্পষ্টভাবে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং সেই রায়কে সম্মান জানানোই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google