দেশের গোপন খবর পাচারের দায়ে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে আলোচনায় জিনপিং

বেইজিং: চিনের সামরিক আদালতের এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশের দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে (defence ministers)দুর্নীতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তবে দু’বছরের স্থগিতাদেশসহ। ওয়েই ফেংহে ও তাঁর উত্তরসূরি লি শাংফু দু’জনকেই ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
china-defence-ministers-corruption-case-xi-jinping-crackdown

বেইজিং: চিনের সামরিক আদালতের এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশের দুই প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে (defence ministers)দুর্নীতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তবে দু’বছরের স্থগিতাদেশসহ। ওয়েই ফেংহে ও তাঁর উত্তরসূরি লি শাংফু দু’জনকেই ঘুষ নেওয়া এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরা দুজনেই দেশের গোপন খবর পাচার করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই রায় চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চলা ব্যাপক দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানের সর্বশেষ বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সামরিক আদালত ওয়েই ফেংহেকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে এবং লি শাংফুকে ঘুষ গ্রহণ ও প্রদানের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। দু’জনেরই মৃত্যুদণ্ড দু’বছরের স্থগিতাদেশে রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি আর কোনো অপরাধ না করেন, তাহলে দণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হবে এবং কোনো ছাড় বা প্যারোলের সুযোগ থাকবে না। উভয়ের রাজনৈতিক অধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃমালদায় ফের ছুরি মেরে নৃশংস খুন বিজেপি কর্মী

ওয়েই ফেংহে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। লি শাংফু ২০২৩ সালে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন, কিন্তু মাত্র কয়েক মাস পরেই তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত হয়ে যান। ২০২৪ সালের জুনে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) উভয়কেই দল থেকে বহিষ্কার করে এবং দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ছিল, তাঁরা বিপুল অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন, কর্মী নিয়োগে অনিয়ম করেছেন এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে দুর্নীতি করেছেন।

এই ঘটনা চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে চলতে থাকা শুদ্ধি অভিযানের অংশ।চিনা নেতৃত্বের মতে, এই দুর্নীতি শুধু ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় ঘুষের কারণে চিনের সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই অভিযান শি জিনপিংয়ের ‘দুর্নীতিমুক্ত সেনাবাহিনী’ গড়ার লক্ষ্যের প্রতিফলন।

তিনি বারবার বলেছেন, সেনাবাহিনীতে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।এই রায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো এটাকে শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে দেখছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, চিনের সামরিক নেতৃত্বে এত বড় পরিবর্তনের ফলে দেশটির সামরিক শক্তি ও প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। বিশেষ করে তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগরসহ আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ।

চিনা জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অনেকে সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, উচ্চপদস্থ নেতাদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তি দেখে সাধারণ মানুষের মনে ভয়ও তৈরি হচ্ছে। চিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় (যেখানে সেন্সরশিপ কঠোর) এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে লিখেছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলুক, কিন্তু স্বচ্ছতা থাকুক।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google