কলকাতা: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গঙ্গাসাগরকে (Gangasagar) গড়ে তুলতে এবার কেন্দ্রের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরের উন্নয়ন প্রকল্পকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে কেন্দ্রের PRASHAD (Pilgrimage Rejuvenation and Spiritual, Heritage Augmentation Drive) প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা চেয়েছে রাজ্য।
রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন গত ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে গঙ্গাসাগরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কেন্দ্রের সহযোগিতা চেয়েছেন।
বিশ্বমানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র করার লক্ষ্য
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গঙ্গাসাগরের সারা দেশজুড়ে ধর্মীয় আবেদন রয়েছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রাখে।
রাজ্য সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, গঙ্গাসাগরের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে
• আধুনিক তীর্থযাত্রী পরিকাঠামো
• পর্যটকদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা
• ঐতিহ্য তুলে ধরার বিশেষ কেন্দ্র (Heritage Interpretation Facilities)
• পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো
• স্মার্ট মোবিলিটি ব্যবস্থা
• আধুনিক ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
• নদীতীর উন্নয়ন (Riverfront Development)
• উন্নত জনসুবিধা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা
PRASHAD প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব
রাজ্য জানিয়েছে, জনপথ নির্মাণ দফতর (PWD) PRASHAD প্রকল্পের নির্দেশিকা মেনে একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) তৈরি করবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হবে।
কেন উজ্জয়িনীর উদাহরণ?
উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির কেন্দ্রের PRASHAD প্রকল্পের অধীনে ব্যাপকভাবে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। উন্নত পরিকাঠামো, যাত্রী পরিষেবা এবং পর্যটন ব্যবস্থার ফলে সেখানে পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই মডেল অনুসরণ করেই গঙ্গাসাগরকেও আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
গঙ্গাসাগরের গুরুত্ব
প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করতে আসেন। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় গন্তব্য। রাজ্যের আশা, আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি হলে শুধু তীর্থযাত্রীদের সুবিধাই বাড়বে না, পর্যটন শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা





