কলকাতা: রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন (Sunscreen) এখন দৈনন্দিন রূপচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে ক্রিম, জেল ও লোশন সানস্ক্রিনের ব্যবহার চললেও, সম্প্রতি বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্প্রে সানস্ক্রিন। সহজে ব্যবহার করা যায় এবং বারবার লাগানোও সুবিধাজনক হওয়ায় অনেকেই এখন এই ধরনের সানস্ক্রিনের দিকে ঝুঁকছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে,
স্প্রে সানস্ক্রিন কি সত্যিই ক্রিম সানস্ক্রিনের মতো কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি থেকে বেরোনোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগানো উচিত। আর যদি দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হয়, তাহলে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অন্তর তা পুনরায় ব্যবহার করা প্রয়োজন।
স্প্রে সানস্ক্রিনের বড় সুবিধা হলো, এটি খুব সহজে ব্যবহার করা যায়। অফিস, রাস্তাঘাট বা ভ্রমণের সময় ক্রিম মাখার ঝামেলা ছাড়াই কয়েক সেকেন্ডে এটি লাগানো সম্ভব। এছাড়া পিঠ, ঘাড়, কান বা শরীরের এমন কিছু অংশে, যেখানে হাত সহজে পৌঁছায় না, সেখানে স্প্রে ব্যবহার করাও অনেক সহজ। অনেকের মতে, এটি ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাবও কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্প্রে সানস্ক্রিনকে মূল সানস্ক্রিন হিসেবে নয়, বরং পুনরায় ব্যবহার (reapplication)-এর জন্য বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুদীপ সরকার বলেন, “রোজের ব্যবহারের জন্য ক্রিম সানস্ক্রিনই সবচেয়ে ভালো। বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে ভালোভাবে ক্রিম সানস্ক্রিন লাগান। এরপর বাইরে থাকাকালীন প্রয়োজনে স্প্রে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। তবে ২-৩ ঘণ্টা পর মুখ পরিষ্কার করে আবার সানস্ক্রিন লাগাতে হবে, নইলে কাঙ্ক্ষিত সুরক্ষা মিলবে না।”
অর্থাৎ, স্প্রে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সুবিধাজনক হলেও এটি ক্রিম সানস্ক্রিনের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সঠিকভাবে রক্ষা করতে হলে প্রথমবার ভালোভাবে ক্রিম সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর। বাইরে থাকাকালীন দ্রুত পুনরায় সুরক্ষা নেওয়ার জন্য স্প্রে সানস্ক্রিন একটি ভালো সহায়ক হতে পারে।





