Dol Purnima: হোলি কা দহন বা নেড়াপোড়া কথাটির পিছনে লুকিয়ে কোন পৌরাণিক কাহিনী?

“আজ আমাদের নেড়াপোড়া, কাল আমাদের দোল/ পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বল রে হরিবোল!” এই ছড়াটির সঙ্গে জড়িয়ে বাঙালির নেড়াপোড়া উৎসবের আনন্দ। দোল (Dol Purnima) বা হোলি…

cant-pick-up-the-color-find-out-about-the-home-remedies

“আজ আমাদের নেড়াপোড়া, কাল আমাদের দোল/ পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বল রে হরিবোল!” এই ছড়াটির সঙ্গে জড়িয়ে বাঙালির নেড়াপোড়া উৎসবের আনন্দ। দোল (Dol Purnima) বা হোলি রঙের এই উৎসবের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথা রয়েছে। যেটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পালিত হয়। উত্তরপ্রদেশ বা বিহারে এটিকে বলা হয় ছোটি হোলি বা হোলিকা দহন। আর বাংলায় এর নাম নেড়া পোড়া। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, হোলিকা দহন বা নেড়াপোড়ার মাধ্যমে অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে একে বোঝানো হয়। হোলির আগের দিনের রাতে কাঠ জোগার করে, গাছের ডাল বা খড় ইত্যাদি দিয়ে একটি চুড়ো তৈরি করে জ্বালানো হয়।

হোলিকা দহনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গল্প। কথিত রয়েছে, দৈত্য হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ বিষ্ণুর উপাসক ছিলেন। আর হিরণ্যকশিপু তাই সহ্য করতে পারতেন না ছেলেকে। ছেলেকে মারার জন্য নিজের বোন হোলিকাকে ডাকেন হিরণ্যকশিপু। প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিলে পুড়ে মারা যায় হোলিকাই। বিষ্ণুর দয়ায় বেঁচে যান প্রহ্লাদ। তারপর নৃসিংহ অবতারে হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন বিষ্ণু। সেই ঘটনাকে স্মরণ করা হয় হোলিকা দহনের মাধ্যমে।

তবে অন্য একটি মতে, শিশু শ্রীকৃষ্ণের পুতনা বধ উপলক্ষ্যে পালন করা হয় নেড়াপোড়া। আবার কেউ কেউ বলেন, কৃষ্ণ নেড়া নামক অসুরকে বধ করেছিলেন। সেই উপলক্ষ্যে নেড়াপোড়া। ঘটনাটি ঘটেছিল ফাল্গুন মাসের শুক্ল পক্ষের পূর্ণিমার আগের দিন। সেই থেকেই এটা চলে আসছে। এবং এই হোলিকা দহন থেকেই নাকি পরবর্তী কালে ‘হোলি’ কথাটির উৎপত্তি বলে মনে করেন কেউ কেউ।

এবার হোলিকা দহন পালন করা হবে ২৪ মার্চ রবিবার সন্ধেবেলা। পাড়ায় পাড়ায় একেই নেড়া পোড়া বলে।পঞ্জিকা অনুযায়ী ফাল্গুন মাসের শুক্ল পক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে দোল উৎসব পালিত হয়।

দোলের আগের দিন সন্ধেবেলায় পশ্চিমবঙ্গে নেড়াপোড়া হয়। হোলিকা দহনের পরের দিন হোলি তথা দোল উৎসব। এককালে মানুষ এতটা শাস্ত্রীয় আঙ্গিকে হয়তো আর দেখেন না দহন উৎসবকে। তাঁরা এটিকে নিছক এক অগ্ন্যুৎসব হিসেবেই দেখেন। এদিন সকলে অনেক বাতিল জিনিসপত্র এই আগুনে বিসর্জন করেন।