লাভপুর: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি যেন ক্রমশ বাড়ছে। (Labhpur)এবার বীরভূম জেলার লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা (রানা) এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তৃণমূলেরই অনেক কর্মী রাতের অন্ধকারে বিজেপির হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। দলের ভিতরেই নাকি ‘বিজেপির মোল’ ঢুকে পড়েছে। এই অভিযোগ শুধু একজন বিধায়কের ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
লাভপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। অভিজিৎ সিনহা বলেছেন, দিনের বেলায় তৃণমূলের পতাকা নিয়ে যারা ঘুরে বেড়ান, রাত হলেই তারা বিজেপির হয়ে গোপনে কাজ করছেন। কোনও কোনও এলাকায় তৃণমূল কর্মীরাই নাকি বিজেপির প্রচার সামগ্রী বিতরণ করছেন এবং ভোটারদের মন গলানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি এটাকে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিধায়কের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তৃণমূলের গ্রাসরুটস লেভেলে দলীয় শৃঙ্খলা অনেকটাই আলগা হয়ে পড়েছে।বীরভূম জেলা তৃণমূলের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি এখানে নিজেদের সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কয়েকদিন আগেই চল্লিশটি সংখ্যালঘু পরিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বলে খবর এসেছে। অভিজিৎ সিনহা সেটাকে ‘কয়েকজন বিভ্রান্ত’ বলে উড়িয়ে দিলেও, তাঁর নিজের অভিযোগই এখন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা তুলে ধরছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের অভিযোগ থেকে বোঝা যায় যে দলের কর্মীরা আর আগের মতো এককাট্টা নেই। অনেকেই হয়তো ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝে নিজেদের অবস্থান পাল্টাচ্ছেন।তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ এখন ‘বিজেপি মোল’-এর গল্প বলে দলের ভিতরের অসন্তোষ ঢাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, সমস্যাটা শুধু বাইরের শত্রু নয়, ভিতরের দুর্বলতাই বড়।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তৃণমূলে অসন্তোষ, দুর্নীতির অভিযোগ এবং স্থানীয় স্তরে নেতাদের একচ্ছত্র আধিপত্য অনেক কর্মীকে ক্ষুব্ধ করেছে। ফলে রাতের অন্ধকারে বিজেপির হয়ে কাজ করার মতো ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠছে। ‘পদ্ম ফুটেছে ঘাসের মধ্যেই’ এই কথাটি এখন বীরভূমের রাজনীতিতে বেশ জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।বিজেপির দিক থেকে অবশ্য এই অভিযোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
দলের নেতারা বলছেন, তৃণমূলের কর্মীরা নিজেরাই বুঝতে পেরেছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতিতে বিজেপির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। লাভপুর সহ বীরভূমের বিভিন্ন বিধানসভায় এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তৃণমূলের অন্দরে এখন চাপা উত্তেজনা। শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জেলা স্তরের নেতারা সবাই এই ‘অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা’ নিয়ে চিন্তিত। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন মহারণের প্রাক্কালে দলের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে। অন্যদিকে, সাধারণ কর্মীরা বলছেন, দল যদি তাদের অভিযোগ শোনে এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধান করে, তাহলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না।




















