TCS নাসিক কাণ্ডে বিতর্ক, HR মন্তব্যে যৌন হয়রানি অভিযোগে তোলপাড়

নাসিক: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক BPO ইউনিটে যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তরের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। এক মহিলা কর্মী অভিযোগ করতে চাইলে সেখানকার এইচআর ম্যানেজার তাঁকে বলেন, “এমন ...

By Rana Das

Published:

Follow Us
tcs-nashik-harassment-case-hr-remark-controversy-investigation

নাসিক: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক BPO ইউনিটে যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তরের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। এক মহিলা কর্মী অভিযোগ করতে চাইলে সেখানকার এইচআর ম্যানেজার তাঁকে বলেন, “এমন ঘটনা তো ঘটেই থাকে।” এই মন্তব্যটি এখন বড় বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ এড়ানোর চেষ্টা

পুলিশের তদন্ত অনুসারে, অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে ওই এইচআর কর্মকর্তা মহিলা কর্মীকে হয়রানির অভিযোগ না জানাতে বলেছিলেন। সংবাদ সংস্থা PTI-এর প্রতিবেদনে এই ঘটনা উঠে এসেছে। এই ধরনের মন্তব্য কর্পোরেট অফিসে মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

   

নাসিক পুলিশ কমিশনার সন্দীপ কার্নিক জানিয়েছেন, এই মামলায় তদন্ত জোর কদমে চলছে। পুলিশ SID, অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-সহ বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য নিচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”

Read More: ‘নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও পরিবর্তন হবে’, হলদিয়া থেকে তোপ মোদীর

নয়টি মামলা ও গ্রেপ্তার

পুলিশ এখন পর্যন্ত মোট নয়টি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যৌন হয়রানি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ।

পুলিশ সাতজন পুরুষ ও একজন মহিলাসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, সন্দেহভাজন আরেক মহিলা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া মহিলাকে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা অফিসের টিম লিডারসহ দায়িত্বশীল পদে ছিলেন এবং তাঁরা নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পুরুষ অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপের মতো কাজ করতেন।

Read More: হিজবুল্লাহ নিধনই কাল হল! ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

এইচআর-এর ভূমিকা ও নিদা খান

অভিযোগ উঠেছে যে নাসিক অফিসের এইচআর বিভাগে কর্মরত নিদা খান নামে এক মহিলা কর্মী এখন পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি কর্মীদের অভিযোগ উপেক্ষা করেছেন। পুলিশের মতে, অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে তিনি হয়রানির অভিযোগ না জানাতে বলেছিলেন।

এর আগে, অফিসের ঊর্ধ্বতন সহকর্মীদের দ্বারা মানসিক ও যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ জানানোর পর আটজন মহিলা কর্মীর দাবির ভিত্তিতে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে।

Read More: মন্দিরে মেয়েদের প্রবেশ নিয়ে সুপ্রিমকোর্টকে নাক গলাতে মানা মোদী সরকারের

টাটা গ্রুপের প্রতিক্রিয়া

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এই অভিযোগগুলোকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও পীড়াদায়ক” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে TCS-এর পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। কোম্পানি অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করেছে এবং পুলিশকে পুরোপুরি সহযোগিতা করছে।

TCS জানিয়েছে যে তারা কর্মীদের নিরাপত্তা ও শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার আরথি সুব্রহ্মণিয়ামের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা

নাসিক পুলিশ এখন অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং সম্ভাব্য বাইরের যোগাযোগ খতিয়ে দেখছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলো ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত চলেছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

জাতীয় মহিলা কমিশনও এই ঘটনায় তদন্তকারী প্যানেল গঠন করেছে। ১৮ এপ্রিল নাসিকে সরেজমিন তদন্তের কথা রয়েছে।

এই মামলাটি পুরো কর্পোরেট জগতে বড় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ব্যবস্থা (POSH কমিটি) কতটা কার্যকর ছিল। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

নাসিকের এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা ও অভিযোগের সঠিক তদন্ত কতটা জরুরি। TCS-সহ সব বড় কোম্পানির জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। পুলিশের তদন্ত যত এগোবে, ঘটনার পুরো চিত্র সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google