নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে সবরিমালা মন্দিরে নারীদের প্রবেশসহ ধর্মীয় স্থানে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিয়ে চলতে থাকা (Modi government)শুনানিতে এক বড় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি নয়-সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনো ধর্মীয় প্রথা ‘কুসংস্কার’ কি না, তা নির্ধারণ করার অধিকার আদালতের রয়েছে। এর জবাবে কেন্দ্র সরকার সরাসরি পালটা জবাব দিয়ে বলেছে, “আপনারা আইনের বিশেষজ্ঞ, ধর্মের নয়।”
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কেন্দ্রের হয়ে যুক্তি দিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রথা কুসংস্কারপূর্ণ মনে হলেও তা নির্ধারণ করা বিচারবিভাগের কাজ নয়। তিনি বলেন, “একজনের কাছে কুসংস্কার, অন্যজনের কাছে তা মৌলিক বিশ্বাস। ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যাখ্যা করে ধর্মের অপরিহার্য অংশ কী, তা নির্ধারণ করার যোগ্যতা সেকুলার আদালতের নেই।” কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রথার বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ সীমিত রাখা উচিত।
আরও দেখুনঃ যুদ্ধের প্রভাব আমেও! রপ্তানি খাতের বড় ধাক্কা
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অবশ্য এই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছে, “আদালতের এখতিয়ার আছে কোনো প্রথা কুসংস্কার কি না তা নির্ধারণ করার। আইনসভা যা বলবে, তা-ই শেষ কথা নয়।” বেঞ্চ সতীদাহ, জাদুবিদ্যা ও নরখাদকতার মতো উদাহরণ তুলে ধরে বলেছে, ধর্মের নামে যদি কোনো ক্ষতিকর প্রথা চলে, তাহলে আদালত নীরব থাকতে পারে না। বিচারপতি আহসানুদ্দিন আমানুল্লাহ বলেন, “যুক্তিটা খুব সরলীকৃত।
আদালতের এখতিয়ার আছে।”এই বিতর্কের মূলে রয়েছে সবরিমালা মন্দিরের প্রথা, যেখানে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে নারীদের প্রবেশ নিয়ে একাধিক আবেদনের শুনানি চলছে। কেন্দ্রের যুক্তি, ধর্মীয় সম্প্রদায় নিজেরাই নির্ধারণ করবে কোন প্রথা তাদের বিশ্বাসের অংশ। বিচারপতিরা আইনের বিশেষজ্ঞ, ধর্মের পণ্ডিত নন।রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্ট ধর্মীয় সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে।
হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্য ও সনাতন প্রথাকে বিচারকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। একজন আইনজীবী বলেন, “বিচারকরা পুরোহিত নন, পণ্ডিত নন। তাঁরা ধর্মের আর্বিটারও নন। সনাতন ঐতিহ্য বিশ্বাসীদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।”অন্যদিকে কিছু নারী অধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞ বলছেন, সংবিধানের সমতার অধিকারকে ধর্মের নামে অস্বীকার করা যায় না। সতীদাহের মতো প্রথা নিষিদ্ধ করার ইতিহাস তুলে ধরে তাঁরা বলছেন, আদালতের হস্তক্ষেপ অনেক সময় প্রয়োজনীয় হয়। তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক অধিকার। আদালত যদি প্রতিটি প্রথাকে ‘কুসংস্কার’ বলে চিহ্নিত করতে শুরু করে, তাহলে ধর্মীয় বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাবে।




















