তৃণমূলের ভরাডুবির নেপথ্যে রয়েছে অভিষেকের হাত! বিস্ফোরক হেভিওয়েট নেতা

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ভরাডুবির পর এবার দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে (Krishnendu Narayan)। উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্য তৃণমূলের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
krishnendu-choudhury-abhishek-banerjee-tmc-defeat-controversy

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ভরাডুবির পর এবার দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে (Krishnendu Narayan)। উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্য তৃণমূলের সহ-সভাপতি কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে দলের হারের জন্য সরাসরি নেতৃত্বের একাংশকে দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দলের এই বিপর্যয়ের জন্য মূলত দায়ী “কর্পোরেট ধাঁচের রাজনীতি” এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে বাইরের সংস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। তিনি সরাসরি নিশানা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে দলটি মানুষের দল থেকে সরে গিয়ে অনেকটাই “কর্পোরেট হাউস”-এর মতো পরিচালিত হয়েছে, যা তৃণমূলের মূল আদর্শকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

   

আরও দেখুনঃ অরূপ হারতেই বিস্ফোরক শতদ্রু, ৫০ কোটির মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি

সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি আসে যখন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বর্তমান অবস্থাকে মহাভারতের ‘ধৃতরাষ্ট্র’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর কোনও উপায় ছিল না। তাঁকে অনেকটা ধৃতরাষ্ট্রের মতো আটকে রাখা হয়েছিল।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দলের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে মমতার হাত থেকে সরে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে চলে গিয়েছিল।

এছাড়াও, নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আই-প্যাক র বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন তিনি। কৃষ্ণেন্দু বাবুর অভিযোগ, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং বাইরের সংস্থা নিজেদের মতো করে প্রার্থী নির্বাচন করেছে, যার ফলে তৃণমূলের ঘাঁটিতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, মাঠের রাজনীতি ছেড়ে অতিরিক্ত ডেটা ও সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর কৌশলই দলের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

তিনি আরও দাবি করেছেন, এই পরিস্থিতির আঁচ তিনি অনেক আগেই পেয়েছিলেন এবং বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি দিদিকে হোয়াটসঅ্যাপে বারবার জানিয়েছি, কিন্তু তিনি বলতেন, ‘ওদের সঙ্গে কাজ করো, আমি দেখছি।’” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ চলছিল।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রতি যে আচরণ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, তা নিয়েও গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী। তিনি বলেন, “টিভিতে যা দেখেছি, তা খুব কষ্টের। এভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লাঞ্ছিত হতে হবে, তা কখনও ভাবিনি।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিজের কেন্দ্র ইংরেজবাজার নিয়েও তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেছিলেন, কারণ আগের ফলাফল থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মনোভাব কোন দিকে যাচ্ছে। তাঁর মতে, “শুধু টাকা খরচ করে বা লড়াই করে লাভ নেই, যদি মানুষের সমর্থন না থাকে।”

তবে সব সমালোচনার মাঝেও আশার কথাও শুনিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, “দল কখনও শেষ হয় না, কিছু মানুষ শেষ হয়ে যায়।” যদি দলের ভেতর থেকে দুর্নীতি ও ‘দালালচক্র’ সরানো যায় এবং প্রকৃত কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তৃণমূল আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তিনি এখনও বিশ্বাস করেন, সঠিক নেতৃত্বে দল ভবিষ্যতে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে সক্ষম।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google