
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন অরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছেন ব্যবসায়ী শতদ্রু দত্ত। তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসিকে কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির উপস্থিতি ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বহু দর্শক আশা করেছিলেন কাছ থেকে প্রিয় ফুটবল তারকাকে দেখবেন, কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার সমস্যাও দেখা দেয়। এই ঘটনার জেরে কোননগরের ব্যবসায়ী শতদ্রুকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁকে টানা আটত্রিশ দিন কারাবাস করতে হয়। সেই সময় থেকেই ঘটনার দায় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এবং আঙুল ওঠে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকেও।
সম্প্রতি টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনে পরাজিত হন অরূপ বিশ্বাস। এই ফল প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে মুখ খুলতে শুরু করেন শতদ্রু। একের পর এক বার্তায় তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কোথাও তিনি অরূপের পরাজয়ের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “তোমার খেলা শেষ, এবার আমার খেলা শুরু।” তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে—কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে চলেছেন তিনি, তা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
শতদ্রু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে খুব শিগগিরই তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করবেন এবং সেখানে পুরো ঘটনার অন্তরালের কথা প্রকাশ করবেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের দলের কাছ থেকে জোর করে মাঠে প্রবেশের অনুমতিপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আপত্তি জানালে তাঁদের ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই ঘটনাকে তিনি সরাসরি ‘ব্ল্যাকমেল’ বলে উল্লেখ করেছেন।
আরও একটি বার্তায় তিনি জানান, দীর্ঘ তিন বছরের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। মেসিকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি সাধারণ মানুষের কাছে। বরং পুরো ঘটনার দায় তাঁর ঘাড়ে চাপিয়ে তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শতদ্রু।
এই ঘটনার ফলে তাঁর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্মানহানির কথাও তুলে ধরেছেন। তাই সবদিক বিবেচনা করে তিনি পঞ্চাশ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
সমগ্র ঘটনাটি আবারও রাজ্যের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন সবার নজর সেই সম্ভাব্য সাংবাদিক সম্মেলনের দিকে, যেখানে শতদ্রু দত্ত ঠিক কী কী তথ্য সামনে আনেন, সেটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।













