
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি১৪ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ ও মালদহে পরপর দুটি জনসভা করে। এই প্রচারে তিনি একদিকে যেমন রাজ্যের শাসক দল টিএমসি-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শাসক (বিজেপি)-কেও কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তাঁর এই বহুমুখী আক্রমণের মাধ্যমে তিনি পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। মালদহ, যা একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই জেলায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে “দ্বিমুখী ব্যর্থতা” হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, একদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী-র নীতিগত সিদ্ধান্ত—এই দুইয়ের চাপেই পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে শিল্পক্ষেত্র একপ্রকার “ডাবল আঘাত”-এর শিকার। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বহু শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারী পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতিগুলিও রাজ্যের ছোট ও মাঝারি শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর মতে, এই দ্বৈত প্রভাবের ফলেই রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই খাতটি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলেও বর্তমানে তা চরম সংকটে রয়েছে। নোটবন্দি, জিএসটি এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নীতির প্রভাবের পাশাপাশি রাজ্যের প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসায়ীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে বলে তিনি দাবি করেন। এর ফলে বহু ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেছে।
রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তৃতায় সাধারণ মানুষের সমস্যাকেও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং আয়ের অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় সরকারের নীতির ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রচারের মাধ্যমে রাহুল গান্ধী স্পষ্টভাবে বোঝাতে চেয়েছেন যে কংগ্রেস নিজেকে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়, যা বিজেপি এবং টিএমসি উভয়ের বিরোধিতা করে। তিনি তাঁর দলের পুরনো সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন এবং বিশেষ করে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো অঞ্চলে কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্ককে পুনরুদ্ধার করার উপর জোর দিচ্ছেন।

