কলকাতা: সিইও দফতরের (CEO office) সামনে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা রাত গড়াতেও থামল না। দিনের বেলায় বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। যদিও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে, তবুও উত্তেজনার রেশ কাটেনি।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে বিজেপির পক্ষ থেকে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য এই ধরনের কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই এই বিষয়টি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
দিনের বেলার উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর অনেকেই ভেবেছিলেন রাত নামলে হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ছবি দেখা যায়। রাত গভীর হলেও সিইও দফতরের (CEO office) সামনে থেকে সরেননি তৃণমূল কর্মীরা। তারা অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের বক্তব্য, সিইও দফতরের ভেতরে যাতে কোনওরকম অনিয়ম না ঘটে এবং কোনও নথি বেআইনিভাবে বাইরে না নিয়ে যাওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতেই তাঁদের এই রাতভর অবস্থান। ঘটনাস্থলে পৌঁছান কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও।এদিকে, রাতের এই বিক্ষোভ ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে কড়া বার্তা দেয় মনোজ আগরওয়ালের দফতর। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, “এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।



