নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে যখন প্রবল অস্থিরতা, ঠিক তখনই দেশের অন্দরে জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের সুরক্ষায় তৎপরতা বাড়াল ভারত। ইরান-কেন্দ্রিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়লেও, দেশের সাধারণ মানুষের ওপর যাতে তার আঁচ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর মোদী সরকার। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, দেশীয় বণ্টন ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাই এখন কেন্দ্রের মূল ফোকাস।
স্বস্তির বার্তা দিয়ে মুম্বইয়ে এলপিজি ট্যাঙ্কার
জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড়সড় স্বস্তির খবর মিলেছে মঙ্গলবার। মুম্বই বন্দরে নিরাপদে এসে পৌঁছেছে বিশাল এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কার ‘BW TYR’। উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিতে যুদ্ধের জেরে প্রবল ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারতের সাপ্লাই চেন বা সরবরাহ শৃঙ্খল যে সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে, এই ট্যাঙ্কারের আগমন তারই প্রমাণ। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দেশের সমস্ত বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ একেবারে স্বাভাবিকভাবেই চলছে। কোথাও কোনও বাধা বা জট নেই।
পিএনজি (PNG) সংযোগে রেকর্ড গতি
দেশীয় স্তরে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস বা পিএনজি (PNG) পৌঁছে দেওয়ার কাজেও গতি এনেছে কেন্দ্র। সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) সংস্থাগুলিকে দ্রুত পিএনজি সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল পিএনজি ড্রাইভ ২.০’-এর মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এই উদ্যোগের ফলও মিলেছে হাতেনাতে। শুধুমাত্র মার্চ মাসেই ৩.১ লক্ষেরও বেশি সংযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে আরও ২.৭ লক্ষ নতুন সংযোগ চালুর কাজ চলছে।
স্বাভাবিক রান্নার গ্যাসের জোগান
যে কোনও আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সময় রান্নার গ্যাসের জোগান একটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তবে স্বস্তির বিষয়, দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। গত ১ মার্চ থেকে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লক্ষেরও বেশি গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডার গ্রাহকদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি, পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে ২৩ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত ৩.২ লক্ষেরও বেশি ৫ কেজির ‘ফ্রি ট্রেড’ এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই বিক্রি হয়েছে ৬৩ হাজার সিলিন্ডার।
যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে ঘরে ফিরলেন ভারতীয়রা
দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফেরানোর কাজও জোরকদমে চালাচ্ছে সাউথ ব্লক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ৫.৭২ লক্ষেরও বেশি যাত্রী নিরাপদে ভারতে ফিরে এসেছেন। বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলি সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইনও চালু রয়েছে।
এর পাশাপাশি, সামুদ্রিক ক্ষেত্রেও তৎপর রয়েছে সরকার। এখনও পর্যন্ত ৯৫৯ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই ফিরেছেন ৯ জন। এই পরিসংখ্যান একদিকে যেমন সমুদ্রপথে ঘনাতে থাকা বিপদের ঝুঁকিকে স্পষ্ট করছে, তেমনই ভারতীয় প্রশাসনের লাগাতার কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ও তৎপরতাকেও প্রমাণ করছে।



