কলকাতা: বাংলার ফের সামনে এল পুলিশি গাফিলতির ঘটনা, তাও আবার খোদ কলকাতায়। (Sona Pappu)কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে বহিস্কার করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর নাম অ্যাক্টিভ ক্রিমিনাল লিস্ট বা সক্রিয় অপরাধীদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। এই ঘটনা তদন্তে ধরা পড়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।সোনা পাপ্পু কসবা ও ঢাকুরিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক আতঙ্কের নাম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, এলাকায় অশান্তি ছড়ানো, বেআইনি নির্মাণ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উস্কানি দেওয়াসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গোলপার্ক, কাঁকুলিয়া রোড, ঢাকুরিয়াসহ আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ ও গুলি-বোমাবাজির ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে।
স্থানীয়রা বলেন, তাঁর প্রভাবে অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে চান না।সম্প্রতি গোলপার্কের কাছে একটি অশান্তির ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের চোখ খুলে যায়। তদন্তকারীরা দেখেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ ‘অ্যাক্টিভ ক্রিমিনাল লিস্ট’-এ সোনা পাপ্পুর নামই নেই। অথচ এলাকার মানুষের অভিযোগ অনুসারে তিনি এখনো সক্রিয়ভাবে অপরাধমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। গভীর তদন্তে জানা যায়, কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথই এই নামটি তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলেন।
এই গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অ্যাক্টিভ ক্রিমিনাল লিস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। এতে যাদের নাম থাকে, তাদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়, পেট্রোলিং বৃদ্ধি করা হয় এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সোনা পাপ্পুর মতো একজন কুখ্যাত ব্যক্তির নাম বাদ পড়লে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাই ঝুঁকির মুখে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “এই লোকের নাম তালিকায় না থাকায় পুলিশ অনেক সময়ই তাকে সহজে ধরতে পারেনি বা নজরদারি করেনি। ফলে এলাকায় তোলাবাজি ও অশান্তি বেড়েছে।”ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্মকর্তা বলেন, “পুলিশের মধ্যে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। যে কোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর।”




















