শশী পাঁজাকে প্রবেশে বাধা, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র নিয়ে নতুন বিতর্ক

কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা। অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেখানে পৌঁছে প্রতিবাদে সরব হন শশী পাঁজা।

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
shashi panja voices against DYFI

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রকে ঘিরে। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং ইভিএম সংরক্ষণ নিয়ে একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এলাকায়। ওই রাতে হঠাৎ করেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে আরও বেড়ে যায় রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয় বলে জানা যায়।

Read More: বিজেপিতে যোগ দিতেই জেল যাত্রার সম্মুখীন আপ সাংসদ

এরপর শনিবার সকালে ফের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় একই স্থানে। ওই দিন সকালেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের দিকে যান শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা (Sashi Panja) । অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে প্রথমে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ তাঁকে অনুশীলন কেন্দ্রের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। মূল প্রবেশদ্বারের কাছে পৌঁছনোর পরই কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে আটকে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। কিছু সময়ের টানাপোড়েনের পর অবশ্য তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

   

Read More: বহিরাগত কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছেই আশ্রয় পেল ‘চোর’ স্লোগানে কোনঠাসা গর্গ

অন্যদিকে, স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা (Sashi Panja) এবং ইভিএম সংরক্ষণ নিয়েও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট ঘরে ৮টি ইভিএম রাখা হয়েছে, যা সিসিটিভি নজরদারির বাইরে রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েই তৃণমূলের তরফে রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই ধরনের ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতার প্রশ্নে গুরুতর সন্দেহ তৈরি করছে এবং ভোট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে জনমানসে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। (Sashi Panja) ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে পুরো এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে কলকাতা পুলিশও। গোটা এলাকাকে কার্যত ঘিরে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার বলয়ে। প্রবেশ ও প্রস্থানের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। মূল প্রবেশদ্বারটির উচ্চতা প্রায় ৮ ফুট, যাতে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

Read More: নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই তৃণমূল সন্ত্রাসের অভিযোগ ‘সিংহমের’ ফলতায়

নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রের পাশে রয়েছে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, যেটিকে গণনাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে একই এলাকায় স্ট্রং রুম এবং গণনাকেন্দ্র থাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যাতে কোনও জমায়েত বা অশান্তি পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

গণনাকেন্দ্রের সামনে দু’মানুষ সমান উঁচু লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত হয়। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, সমস্ত পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google