
কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে (Falta)বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপিকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ স্থানীয় বিজেপি সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে বিজেপি সমর্থিত সাধারণ মানুষ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পর থেকেই ফলতার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গত কয়েকদিন ধরে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছিল। পরিস্থিতি চরম আকার নেয় যখন এই দুষ্কৃতীরা বিজেপি সমর্থকদের ওপর শারীরিক হামলা চালায়। অভিযোগের তালিকায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়টি হলো মহিলাদের ওপর নির্যাতন।
আরও দেখুনঃ নজরে দাউদ! বিদেশে লুকোনো অপরাধীদের বের করতে শুরু মোদীর ‘অপারেশন গ্লোবাল হান্ট’
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হওয়ার কারণে মহিলাদের শ্লীলতাহানি ও মারধর করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।জাতীয় সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদনিরাপত্তার অভাব এবং পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তার’ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ সকালে আক্রান্ত বিজেপি সমর্থক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা লাঠি এবং দলীয় পতাকা নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন।
Hindus in Falta, South 24 Parganas, are protesting on the road after TMC goons threatened them for voting BJP.
They are now demanding arrest of Begum’s minions.pic.twitter.com/YqeMMRf97r
— do’o kappa (@viprabuddhi) May 1, 2026
অবরোধের জেরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে যায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি স্পষ্ট অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী বা পর্যাপ্ত পুলিশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারেন।পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতিঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এক বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের বেগ পেতে হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও এলাকায় থমথমে ভাব বজায় রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফলতার বিভিন্ন সংবেদনশীল মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শাসক দল হার নিশ্চিত জেনে এলাকাকে সন্ত্রাসপুরীতে পরিণত করতে চাইছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘পারিবারিক বিবাদ’ বা ‘বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল’ বলে ব্যাখ্যা করেছে।তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে সাধারণ মানুষের একমাত্র আর্তি শান্তি ও নিরাপত্তা। ঘরছাড়া মানুষরা কবে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারবেন এবং দোষীরা কবে উপযুক্ত শাস্তি পাবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।








