
নয়াদিল্লি: বিদেশের মাটিতে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের ডেরায় হানা দিতে ভারত সরকার এবার শুরু করেছে এক নজিরবিহীন অভিযান ‘অপারেশন গ্লোবাল হান্ট’ (Global Hunt)। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ভারতীয় বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটি একটি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মগোপন করে থাকা ১০০-র বেশি কুখ্যাত অপরাধীকে চিহ্নিত করে দেশে ফিরিয়ে আনা।
এই মেগা অভিযানের শুরুতেই মিলেছে এক বিশাল সাফল্য। আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তার ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত সেলিম ডোলা ধরা পড়েছে তুরস্কের মাটিতে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের যৌথ তৎপরতায় তাকে সেখান থেকে পাকড়াও করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ গণনার আগে বেনজির সতর্কতা: ইভিএম বিতর্কের আবহে শহরের সাত জায়গায় জারি ১৬৩ ধারা
সেলিম ডোলার এই গ্রেফতারিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কোম্পানির নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের বহু গোপন তথ্য এখন ভারতের হাতের মুঠোয় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক মহলে দাবি জানিয়ে আসছিল যে, বহু বড় বড় অপরাধী বিদেশের মাটিতে বসে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও দেখুনঃ গোয়ায় সনাতন ধর্ম নিষিদ্ধ করার দাবি বেনাউলিমের খ্রিস্টানদের
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কূটনৈতিক জটিলতা বা তথ্যের অভাবে তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। ‘অপারেশন গ্লোবাল হান্ট’ সেই সব জটিলতাকে একপাশে সরিয়ে রেখে একটি সুপরিকল্পিত এবং আক্রমণাত্মক রণকৌশল হিসেবে সামনে এসেছে। দিল্লি থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই অপারেশনের আওতায় শুধুমাত্র গ্যাংস্টার নয়, বরং বড় মাপের আর্থিক তছরুপকারী, মাদক সম্রাট এবং সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
সেলিম ডোলার প্রত্যর্পণ অপরাধ জগতের কাছে একটি কড়া বার্তা। এক সময় মনে করা হতো দুবাই, তুরস্ক বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অপরাধীরা নিরাপদে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারবে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শক্তিশালী অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির কারণে সেই দিন শেষ হয়ে এসেছে।
তুরস্কের মতো দেশ, যারা অতীতে ভারতের অনেক পদক্ষেপে দ্বিমত পোষণ করেছে, তারাও এবার অপরাধীদের ধরতে ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এটি কেবল একটি পুলিশের সাফল্য নয়, বরং ভারতের সফল বিদেশনীতিরও প্রতিফলন।বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অপারেশন গ্লোবাল হান্ট’ এর মাধ্যমে ভারত সরকার এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের আইন ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গিয়ে সাত সমুদ্র পাড়েও কেউ রেহাই পাবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নজরদারিতে এনআইএ (NIA) এবং সিবিআই (CBI) এই অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে। অপরাধীদের আর্থিক লেনদেনের উৎস বন্ধ করা থেকে শুরু করে তাদের লোকাল কন্ট্যাক্টগুলোকেও এখন কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।সেলিম ডোলাকে জেরা করে পরবর্তী ধাপে আর কোন কোন বড় অপরাধীকে জালে ফেলা যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তবে এটা নিশ্চিত যে, ভারতের এই ‘গ্লোবাল হান্ট’ এখন আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। অপরাধীদের জন্য এখন পৃথিবীটা সত্যিই ছোট হয়ে আসছে। কারণ, ভারত এখন আর কেবল নিজের সীমানার ভেতরে নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো কোণ থেকে অপরাধীদের টেনে আনতে বদ্ধপরিকর। ডোলার গ্রেফতারি কেবল শুরু মাত্র, সামনে হয়তো আরও বড় কোনো নাম ভারতের খাঁচায় বন্দি হতে চলেছে।







