কলকাতা: NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষা ঘিরে (NEET 2026)তিনটি পৃথক মার্কশিট পাওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক পরীক্ষার্থী। কিন্তু মামলার শুনানিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি উঠে আসে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) আদালতে দাবি করে, আবেদনকারীর জমা দেওয়া মার্কশিট, স্কোরকার্ড এবং ওএমআর শিট-সহ সমস্ত নথিই জাল ও বিকৃত।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনটিএ-কে অনুমতি দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে জাল নথি ব্যবহার করে বিচারপ্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ১৮ না হলেই কি সাত খুন মাফ! NEET আন্দোলন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ দিলীপের
মামলার সূত্রপাত হয়েছিল এক পরীক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর দাবি ছিল, NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার জন্য তিনি তিনটি ভিন্ন মার্কশিট পেয়েছেন। এই অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরীক্ষার্থী দাবি করেন, বিভিন্ন মার্কশিটে নম্বরের অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেই কারণেই তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ চান। অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয় এবং এনটিএ-র কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে এনটিএ-র আইনজীবী আদালতে জানান, আবেদনকারীর অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। সংস্থার দাবি, আদালতে জমা দেওয়া নথিগুলি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, স্কোরকার্ডটি আদৌ ২০২৬ সালের নয়, বরং ২০২৫ সালের পরীক্ষার। পাশাপাশি যে ওএমআর শিট জমা দেওয়া হয়েছে, সেটিও মূল নথি নয় এবং সেটিকে বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি করে এনটিএ। সংস্থার বক্তব্য, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
শুনানির সময় বিচারপতি অমৃতা সিনহা বিষয়টি নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি প্রাথমিকভাবে মন্তব্য করেন, আদালতের সামনে জাল নথি পেশ করে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে এনটিএ-কে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ ‘দ্বিখণ্ডিত’ স্রষ্টার প্রত্যাবর্তন: লাল পাড় সাদা শাড়িতে কলকাতার পথে তসলিমা নাসরিন
এনটিএ আদালতে আরও জানায়, শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপই নয়, পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী তিন বছর ওই পরীক্ষার্থীকে NEET পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। যদিও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ম এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়ে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বিশেষ করে NEET-UG পরীক্ষা ঘিরে নম্বর বিভ্রাট, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং মূল্যায়ন সংক্রান্ত নানা অভিযোগ আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। তবে এই মামলায় অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত না হয়ে উল্টে জাল নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আরও দেখুনঃ বিদেশ যাওয়ার জন্য অভিষেকের আদালতে দেওয়া সার্টিফিকেট জাল! দাবি মেডিকেল কাউন্সিলের
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতের সময় নষ্ট করতে গেলে তার কঠোর আইনি পরিণতি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ভুয়ো নথি ব্যবহার করলে শুধু মামলা খারিজই নয়, ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর NEET-UG পরীক্ষা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। নম্বরের অসঙ্গতি, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় দেখিয়ে দিল, কোনও অভিযোগ আদালতে পেশ করার আগে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও আসল নথি থাকা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যথায় অভিযোগকারী নিজেই আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারেন। আদালতের এই নির্দেশের পর জাল নথি ব্যবহার করে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার প্রবণতা রুখতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে আইনজীবী মহলের একাংশ।





