কলকাতা: আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড৷ রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত একটি গুদামে (Anandapur warehouse fire) হঠাৎ আগুন লাগে। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের একাধিক গুদামে। সোমবার সকাল পেরিয়ে গেলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা এই আগুনে এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৬ জন কর্মী।
বারুইপুর জেলার পুলিশ সুপার সুভেন্দ্র কুমার জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের ভিতরে এখনও প্রবল ধোঁয়া ও তাপ থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার পর দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে সার্চ অপারেশন শুরু করেছে। তবে ভিতরের অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ধীরে ধীরে এগোতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ প্রথম আগুন লাগে একটি খাদ্যসামগ্রী মজুতের গুদামে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই আগুন আশপাশের আরও কয়েকটি গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। গুদামগুলিতে শুকনো খাবার ও দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলে মোট ১২টি দমকল ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার সুদীপ্ত বিট জানিয়েছেন, গুদামের পিছনের দিকেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যদিও দমকলের তৎপরতায় কিছু গুদাম আগুনের কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, গুদামে কর্মীদের থাকার জায়গা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। জানা যাচ্ছে, রান্নার সময় ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলেই আগুন ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি।
দমকল আধিকারিকদের একাংশের দাবি, সংশ্লিষ্ট কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে ফরেনসিক তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। গুদামের ভিতরের বিপুল পরিমাণ সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় গোটা এলাকা পুলিশি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালেও গুদামের ভিতর থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা উঠতে দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দমকল ও উদ্ধারকাজ চলবে।




















