কলকাতা: রাজনীতির ময়দান থেকে এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ কলকাতার রাজপথে চেনা সাদা শাড়ির ওপর আইনজীবীর কালো শামলা ও গাউন পরে হাইকোর্ট চত্বরে তাঁর আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ভোট-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় দলীয় কর্মীদের হয়ে সওয়াল করতেই এদিন এজলাসে হাজির হন তিনি। (mamata banerjee kolkata high court appearance)
মামলার প্রেক্ষাপট
রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসা ও অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র, আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সওয়াল-জবাব পর্বে অংশ নিতে এজলাসের ভিতরে পৌঁছে গিয়েছেন মমতা।
নির্বাচনী সমীকরণ ও গুরুত্ব
এবারের নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে (ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণা হওয়ায়)। এর মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগুরু শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এছাড়াও কংগ্রেস ২টি, সিপিএম ১টি, আইএসএফ ১টি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) ২টি আসনে জয়ী হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভায় শক্তি কমলেও আইনি পথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই খোদ নেত্রী সওয়ালের দায়িত্ব নিয়েছেন।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি পদক্ষেপকে তাঁর রাজনৈতিক সাহসের পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেছে জোড়াফুল শিবির। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত দলের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, সত্য ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই অতুলনীয়। বিপদের দিনে তিনি বাংলার মানুষকে একা ফেলে যান না, তা তিনি আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে এবার নিজের রাজ্যের হাইকোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বাংলার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।




















