কলকাতা: বাংলায় প্রথম দফার ভোটের পরেই আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলেন অসমের মুখ্যমুন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা৷ তিনি বার্তা দিলেন ভোটের পর শাসকদলের ‘গুণ্ডারা’ সাবধান হয়ে যান৷ তাঁর হুশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন ৪ মে-র পর তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যেতে হবে৷
হিমন্তের আক্রমণাত্মক বক্তব্য
বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের যারা সন্ত্রাস ও অশান্তি ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিজেপি জিতলে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আর চলবে না। এ ই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের যারা গুন্ডামি করেছে, তাদের এখন থেকেই সতর্ক হয়ে যাওয়া উচিত। ৪ মে-র পর আর কোনও ছাড় নেই।”
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফার ভোট আসন্ন। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এই সময়ে বিজেপি নেতার এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
বিজেপির তরফে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মী ভোটের আগে ও পরে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নেতা বলেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কেউই রেহাই পাবে না।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও এই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে দলের নেতারা আগে এ ধরনের মন্তব্যকে “বিজেপির ভয় দেখানোর চেষ্টা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা এই বক্তব্যে উৎসাহিত। তাঁরা মনে করছেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং যারা অশান্তি ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড পরিমাণে বেশি। প্রথম দফায় ৯১.৯১ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে। মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতার এই হুঁশিয়ারি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দলটি ভোটের পরও শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো আপস করবে না।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোট-পরবর্তী নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, স্ট্রং রুম নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।
রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায় রয়েছেন যে ৪ মে-র পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। বিজেপি নেতার এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূল কংগ্রেস কীভাবে এর জবাব দেয় এবং নির্বাচন কমিশন কতটা কড়া নজরদারি বজায় রাখে।




















