কামারহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা: ভারতের নির্বাচন কমিশনার কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা৷ অসমবাসীর মামা’ তথাএ এই বিজেপি নেতা বাংলার নির্বাচনী প্রচারে এসে এমনটাই বললেন৷
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতে কামারহাটিতে এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে যারা বিজেপি প্রার্থীদের উপর হামলা করেছে, তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে।
হিমন্তের সরাসরি হুঁশিয়ারি
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “বিজেপি সরকার গঠিত হলে যারা বিজেপি প্রার্থীদের উপর হামলা করেছে, তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যজুড়ে বিজেপির সমর্থনে একটা বড় ঢেউ উঠেছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, “বিজেপি অসমে ১০০টি আসন এবং পশ্চিমবঙ্গে ২০০টি আসন জিতবে।”
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের প্রশংসা
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর প্রশংসা করে বলেন, তাঁর এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন)-এর অবদান দেশ কখনও ভুলবে না। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতরত্ন দেওয়া উচিত।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “অসমেও এসআইআর চালানো উচিত।”
জনসভায় উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া
কামারহাটিতে এই জনসভায় বিজেপির রাজ্য ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হিমন্তের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তাঁর বক্তব্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখিয়েছেন।
এই বক্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ত বে রাজনৈতিক মহলে এটিকে বিজেপির আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল হয়ে গিয়েছে৷ দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত । ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই সফর বিজেপির প্রচারকে আরও জোরদার করেছে। তিনি বারবার বলছেন, বাংলায় পরিবর্তন আসছে এবং বিজেপি বড় জয় পাবে।
এসআইআর নিয়ে তাঁর মন্তব্যও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসআইআর হল ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। হিমন্তের দাবি অনুসারে এটি অসমেও চালু করা উচিত।
কামারহাটির এই জনসভা দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিজেপি নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই বক্তব্য রাজ্যের ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে।




















