
স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ রদবদল ঘটল ক্রীড়া দপ্তরে। এতদিন এই দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মাথাভাঙার বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিকের পরিবর্তে এবার ক্রীড়া দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ (Dr Indranil Khan)। ক্রীড়ার পাশাপাশি যুবকল্যাণ ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম পর্যায়ে নিশীথ প্রামাণিককে ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের জন্য আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারমূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা ছিল তাঁর অন্যতম বড় পদক্ষেপ। অলিম্পিকে পদকজয়ীদের জন্য ৮ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করে তিনি নজর কাড়েন। পাশাপাশি এশিয়ান গেমস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সফল ক্রীড়াবিদদের জন্যও আর্থিক পুরস্কার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
নিশীথ প্রামাণিক বারবার ক্রীড়াক্ষেত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পক্ষেও সওয়াল করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, খেলাধুলার উন্নয়নই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। দায়িত্বে থাকাকালীন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে বিতর্কিত একটি মূর্তি অপসারণ এবং দীর্ঘদিনের আলোচিত ‘মেসি-কাণ্ড’-সংক্রান্ত নথি পুনরায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগও তিনি নিয়েছিলেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রীড়া প্রশাসনে কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
তবে নতুন দপ্তর বণ্টনে নিশীথের দায়িত্ব কমেনি। বরং তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পাশাপাশি জলসম্পদ তদন্ত ও উন্নয়ন দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে।
অন্যদিকে নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি চিকিৎসক হিসেবেও পরিচিত ইন্দ্রনীলের সামনে এখন রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভা অনুসন্ধান এবং যুব উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। দীপক বর্মন পেয়েছেন স্কুল শিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তর। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী স্বপন দাশগুপ্তকে দেওয়া হয়েছে অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব। স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাপস রায়কে বাণিজ্য দপ্তর এবং অর্জুন সিংকে শ্রম ও পর্যটন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তর নিজের কাছেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, বিদ্যুৎ এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্ব সরাসরি তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকবে। ফলে নতুন মন্ত্রিসভায় প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
