কলকাতা: মমতাকে নিয়ন্ত্রণ করেন মোদী। ঠিক এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন মোদী প্রত্যেকবারই নির্বাচনের আগে বাংলায় আসেন। প্রচুর বক্তৃতা দেন কিন্তু তাতে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না। বাবুল বলেন নরেন্দ্র মোদী যতই বলবেন ততই তৃণমূলের লাভ। এরপরেই তিনি বলেন সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন হন বা মোদী দুজনকেই নিয়ন্ত্রণ করছে বাঙালি মহিলা। অর্থাৎ বাবুল স্পষ্টই বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদী যতই বলুন না কেন মমতার কাছে পাত্তা পাবেন না তিনি।
VIDEO | WB polls: TMC MP Babul Supriyo says, “We have two superstars, Amitabh Bachchan and PM Narendra Modi, both controlled by Bengali women; one by Jaya Bachchan, the other by Mamata Banerjee.”#AssemblyPollsWithPTI#WestBengalPollsWithPTI
(Full video available on PTI Videos… pic.twitter.com/rvuqVbxTtJ
— Press Trust of India (@PTI_News) April 12, 2026
বাবুল সুপ্রিয়র এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য করে তৃণমূল আসলে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরে বাবুলের মন্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলের একাংশের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব এখনও অটুট এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আক্রমণেও তা নড়বড়ে হয়নি।
আরও দেখুনঃ India Sports: অচেনা আয়ুষের চমক, এশিয়ান ব্যাডমিন্টন ফাইনালে ভারতের নতুন তারকা
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্য নিছক রসিকতা হলেও এর মধ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে। সেটি হল, তৃণমূল চাইছে নিজেদের শক্ত অবস্থান এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সামনে রেখে ভোটের ময়দানে নামতে। অন্যদিকে বিজেপি জাতীয় নেতৃত্বের মুখকে সামনে রেখে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক ভাষা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটাক্ষ এবং চমকপ্রদ মন্তব্য এখন নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাবুল সুপ্রিয়র মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তরজা উস্কে দিল।
তবে সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও বাস্তব সমস্যাগুলি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এই বিষয়গুলির পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।




















