দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে (Ajay pal sharma) ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এই পুলিশ পর্যবেক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার এক আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা (Ajay pal sharma) তাঁর নির্ধারিত দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বদলে কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর মতো আচরণ করছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশের পক্ষে উপযুক্ত নয়। ওই আইনজীবী আরও দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশেও একাধিক মামলা রয়েছে, যা তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আবেদনে আদালতের কাছে অনুরোধ করা হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট আইপিএস অফিসারকে নিয়ম মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই ধরনের নির্দেশ প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। তবে মামলাটি প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই আদালতের তরফে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়।
বিচারপতি কৃষ্ণা রায় জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়কে গুরুত্ব দিয়ে আদালত জানায়, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত যেদিন রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে(Ajay pal sharma) ততদিন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কোনও আধিকারিকের কাজে এই সময়ে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। আদালত আরও পরামর্শ দেয়, যদি কারও কোনও অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো উচিত। কমিশনই এই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। বিচারব্যবস্থার এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে আইনগত মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার ফলে রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে অভিযোগ উঠছে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে, অন্যদিকে আদালতের সিদ্ধান্তে আপাতত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।




















