তৃণমূলে কি ‘বরফ’ গলার ইঙ্গিত দুই নেতার? ঐক্যের বার্তা অখিল-পুত্র সুপ্রকাশের

মিলন পণ্ডা, কাঁথি ( পূর্ব মেদিনীপুর ): রাজ্য রাজনীতি’তে শিরোনামে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণ কাঁথি। দক্ষিণ কাঁথির বিধানসভা নির্বাচনে কে দাঁড়াবে তা এখন লাখ টাকার প্রশ্ন? তৃণমূল (TMC) ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Akhil Giri

মিলন পণ্ডা, কাঁথি ( পূর্ব মেদিনীপুর ): রাজ্য রাজনীতি’তে শিরোনামে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দক্ষিণ কাঁথি। দক্ষিণ কাঁথির বিধানসভা নির্বাচনে কে দাঁড়াবে তা এখন লাখ টাকার প্রশ্ন? তৃণমূল (TMC) হোক পার্থী হোক? তবে কি শেষ পর্যন্ত বরফ গলল? একদিন আগেই বেসরকারি টিভি চ্যানেলে একান্ত সাক্ষাৎকারে দলের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন বিধায়ক বাবা অখিল গিরি । ঠিক তার পরদিনই সেই নেতার সঙ্গে একই ফ্রেমে ধরা দিলেন বিধায়ক-পুত্র তথা পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুই বিপরীতধর্মী চিত্রকে ঘিরে এখন জল্পনার পারদ তুঙ্গে কাঁথির ঘাসফুল শিবিরে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি এবং পটাশপুরের বিধায়ক তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিকের গোষ্ঠীর বিবাদ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। বিশেষ করে রামনগরে অখিল গিরির নির্বাচনী কেন্দ্রে এই লড়াইয়ের আঁচ সবথেকে বেশি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় রাজনীতিতে যা ‘ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত’ দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে উত্তম বারিকের নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করেন অখিল গিরি। যা এই বিরোধের আগুনে ঘি ঢেলেছিল।সেই তিক্ততার আবহের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি অন্যরকম ছবি। তাতে দেখা যাচ্ছে, সমস্ত মত-পার্থক্য সরিয়ে পাশাপাশি বসে আছেন উত্তম বারিক এবং অখিল-পুত্র তথা কাঁথির পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি। ছবিটিকে সামনে রেখে উত্তম ও সুপ্রকাশ দুজনেই জানিয়েছেন, মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জির নির্দেশে তাঁরা একজোট হয়ে লড়াই করবেন।

   

সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা জানিয়েছেন, পুরনো বিরোধ ভুলে দলের স্বার্থে তাঁরা হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করতে চান। জেলার ১৬ টি বিধানসভা আসনে ঘাসফুলের হাসি ফোটাতে চান। প্রকাশ্যে ঐক্যের কথা বলা হলেও দলের অন্দরের চিত্রটা অবশ্য ভিন্ন। বিবাদমান দুই শিবিরের কর্মীরাই একে অপরের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অখিল গিরি যখন সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছেন, তখন তাঁর পুত্র সুপ্রকাশ গিরির নমনীয় মনোভাব এবং উত্তমের পাশে বসা আসলে একটি ‘পলিটিক্যাল ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বাবার করা মন্তব্যের পাল্টা নেতিবাচক প্রভাব যাতে সংগঠনে না পড়ে, সুপ্রকাশ সেই ভারসাম্য বজায় রাখছেন।

রাজনৈতিক কারবারিরা একাংশ উত্তম ও সুপ্রকাশের এই সাক্ষাৎকে ইতিহাসের ‘শিবাজী ও আফজল খাঁ’-র সাক্ষাতের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাঁদের কথায়, যতই প্রকাশ্যে ঐক্যের কথা বলা হোক না কেন, আস্তিনে ছুরি লুকিয়ে রেখেছে দুই শিবিরই। শুধু মোক্ষম সময়ে কোপ বসানোর সুযোগ খুঁজছে দুই পক্ষ।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google