বেঙ্গালুরু: আইপিএল (IPL 2026) শুরু হওয়ার আগেই কর্ণাটকে তৈরি হল তীব্র বিতর্ক। তবে এই উত্তেজনার কারণ মাঠের খেলা নয়, বরং বিধায়কদের জন্য বিনামূল্যে টিকিট ও বিশেষ আসনের দাবি। আগামী শনিবার বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের ম্যাচ দিয়ে নতুন মরশুম শুরু হতে চলেছে। তার আগেই রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন শাসক ও বিরোধী, দুই পক্ষেরই জনপ্রতিনিধিরা।
হুনগুন্ডের কংগ্রেস বিধায়ক বিজয়নন্দ কাশাপ্পানাভার এই ইস্যুতে সরাসরি দাবি জানিয়েছেন, প্রতিটি বিধায়ককে অন্তত পাঁচটি করে টিকিট দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, বিধায়করা সাধারণ দর্শক নন, তাই তাঁদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে খেলা দেখা সম্ভব নয়। গতবার তাঁদের সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে তিনি জানান, এবার সেই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। বিধায়ক ও মন্ত্রীদের জন্য আলাদা আসনের ব্যবস্থাও করতে হবে বলে দাবি তোলেন তিনি।কাশাপ্পানাভার আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থা সরকারের কাছ থেকে জমি ও নিরাপত্তা সহ নানা সুবিধা পেলেও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি কোনও সম্মান দেখাচ্ছে না। পাশাপাশি অনলাইন টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কালোবাজারির অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিরোধী শিবির থেকেও একই সুর শোনা গিয়েছে। বিরোধী দলনেতা আর অশোক বিধানসভায় এই বিষয়টি তুলে ধরে জানান, সরকার নামমাত্র ভাড়ায় বিপুল পরিমাণ জমি ক্রিকেট সংস্থাকে দিয়েছে। অথচ সেই সংস্থা সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সংস্থা বিপুল লাভ করছে, অথচ জনপ্রতিনিধিদের জন্য ন্যূনতম সুবিধাও দিচ্ছে না। এই বিতর্কে সুর মিলিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার ইউ টি খাদের এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও। শিবকুমার জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্রিকেট সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করবেন, যাতে বিধায়কদের দাবি বিবেচনা করা হয়।বিধায়কদের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি দাবি সামনে এসেছে। প্রথমত, প্রতিটি ম্যাচে তাঁদের জন্য ন্যূনতম পাঁচটি করে টিকিট বরাদ্দ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ দর্শকদের থেকে আলাদা বিশেষ গ্যালারিতে বসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। তৃতীয়ত, যেহেতু সংস্থা সরকারি জমি ও নিরাপত্তার সুবিধা ভোগ করছে, তাই তাদের আরও দায়বদ্ধ ও নমনীয় হওয়া উচিত।
এদিকে সাধারণ দর্শকদের একাংশ এই দাবি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, যেখানে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বা অনলাইনে উচ্চমূল্যে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের এমন বিশেষ সুবিধার দাবি অযৌক্তিক। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, খেলা শুরু হওয়ার আগেই প্রশাসনিক এই টানাপোড়েন আইপিএলকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান কীভাবে হয় এবং ম্যাচ আয়োজনের উপর তার কোনও প্রভাব পড়ে কি না।




















