কলকাতা: নতুন সরকারের নতুন প্রকল্প ‘আপনার সরকার আপনার পাশে।’ (Apnar Sarkar)বাংলার নতুন গেরুয়া সরকারের এই প্রকল্পে আর কোনো মিডল ম্যান নয় সরাসরি ফোন করা যাবে প্রশাসনিকদের। হেল্প লাইন নম্বর ৮২৮২০-৮২৮২০ এই নম্বরে সোমবার থেকে শনিবার ফোন করা যাবে বিভিন্ন দফতরে।
সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই হেল্পলাইনে ফোন করা যাবে। বিভিন্ন দফতরের – যেমন পুলিশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, জলসরবরাহ, ভূমি, খাদ্য, পঞ্চায়েতসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি এই লাইনে উপস্থিত থাকবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি কল রেকর্ড করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
আরও দেখুনঃ চাপের মুখে কালীঘাট, ভরসা এখন দিল্লির দরবার
নতুন মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে বলেন, “আমরা চাই সরকার যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। দালালি ও হয়রানির অবসান ঘটাতে এই হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। এখন থেকে প্রত্যেক নাগরিক অনুভব করবেন যে সরকার তাঁর পাশে আছে।” প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, হেল্পলাইনটি একটি অত্যাধুনিক কল সেন্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
প্রথম পর্যায়ে কলকাতা ও জেলা সদরগুলোতে ফোকাস করা হলেও ধীরে ধীরে গ্রামাঞ্চলেও এর সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেল্পলাইনে আসা অভিযোগগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে – জরুরি, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ। জরুরি অভিযোগের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে সমাধানের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একটি রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে যাতে কোন বিভাগে কতগুলো অভিযোগ এসেছে এবং কতগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে তা স্পষ্ট হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে এই ধরনের প্রকল্প সরকারকে জনসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের উপর। যদি সত্যিকার অর্থে দালালচক্র ভাঙা যায় এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এটি বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষ, ছোট ব্যবসায়ী ও যুবসমাজের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। তবে কেউ কেউ সন্দেহও প্রকাশ করেছেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বলেন, “কাগজে-কলমে সব ভালো। কিন্তু বাস্তবে কর্মকর্তাদের সাড়া পাওয়া যায় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।”




















