নয়াদিল্লি: বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ দিল্লির মালব্য নগরের ‘ফ্লরিশ স্টে বিএন্ডবি’ (Flourish Stay B&B) নামের একটি হোটেলে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা আবাসন। প্রাণ বাঁচাতে আবাসিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, দুই মহিলা আগুন ও ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে বহুতল ভবনটি থেকে নিচে ঝাঁপ দিচ্ছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করা হলেও বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়।
৬টি ঘরের জায়গায় চলত ২৫টি!
দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ স্কিমের আওতায় এই হোটেলটিকে মাত্র ৬টি ঘর চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সমস্ত সুরক্ষাবিধি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হোটেলটিতে রমরমিয়ে ২৫টি ঘর চালানো হচ্ছিল, যার মধ্যে কয়েকটি বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ তলাতেও ছিল। আগুন লাগার পর প্রাথমিক উদ্ধারকাজে বেসমেন্ট থেকেই তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু বহুতলের অন্য অংশগুলোতে তল্লাশি চালানোর সাথে সাথে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লির দমকল বাহিনীর (DFS) আটটি ইঞ্জিন এবং বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও হোটেলের বাইরের অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে। আহতদের তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে হোটেলটি সুরক্ষাবিধি মেনে চলছিল কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন ।
শোকপ্রকাশ মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার, আর্থিক সাহায্য ঘোষণা
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সমস্ত রকম চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।




















