কলকাতা: বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই বড়সড় ভাঙনের মুখে ঘাসফুল শিবির! গত দু’দিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে চলা তীব্র জল্পনাকে সত্যি করে বুধবার বিধানসভায় নাটকীয় মোড়৷ ৫৯ জন বিধায়কের সই করা চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ফলে দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় ‘নতুন তৃণমূল’ বা ‘নব তৃণমূল’ গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই শাসক শিবিরের অন্দরে যে সুপ্ত অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, বুধবার তা এক লহমায় প্রকাশ্যে চলে এল। ৫৯ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভায় প্রবেশ করতেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তৃণমূলের অন্দরে এবার আড়াআড়ি বিভাজন ঘটে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলত্যাগী বিধায়কদের এই সংখ্যাটি দুই-তৃতীয়াংশ হওয়ায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া এড়িয়ে তাঁরা সহজেই নতুন দল বা গোষ্ঠী গঠন করতে পারবেন। এর ফলে মূল সংগঠনের ‘ঘাসফুল’ প্রতীক এবং বিধানসভায় বিরোধী দলের তকমা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে চলেছে।
কারা রয়েছেন ঋতব্রতের ‘নতুন তৃণমূল’ শিবিরে?
এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, মমতা-অভিষেকের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে বেরিয়ে আসা এই শিবিরে রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট ও পরিচিত মুখ শামিল হয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায়, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি, এবং হাওড়া জেলার সমীর পাঁজা ও অরুণাভ সেন। মহেশতলার শুভাশিস দাস, কুলপির বর্ণালী ধারা, এবং পাথরপ্রতিমার সমীর জানা।
উত্তরবঙ্গের ও মুর্শিদাবাদের একঝাঁক মুসলিম মুখ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য৷ সামসেরগঞ্জের মহম্মদ নূর আলম, হরিহরপাড়ার নিয়ামত শেখ, ভগবানগোলার রেয়াত হোসেন, সুতির ইমানি বিশ্বাস, রঘুনাথগঞ্জের আক্রুজ্জামান, সুজাপুরের সাবিনা ইয়াসমিন এবং রতুয়ার সমর মুখোপাধ্যায়। এর মধ্যে লালগোলার বিধায়ক আব্দুল আজিজও (এনামুল হকের জামাতা) এই শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে খবর।
এছাড়াও রয়েছেন কেশপুরের শিউলি সাহা, খড়্গপুরের দিনেন রায়, রথীন ঘোষ, সন্দীপন সাহা এবং চন্দ্রনাথ সিনহার মতো প্রথম সারির নেতারা।
নেত্রী মমতাই, তবে বিরোধী দলনেতা কে?
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা মমতা-অভিষেকের রাশ আলগা করে বেরিয়ে এলেও, এই বিদ্রোহী বিধায়কদের প্রত্যেকেই এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের ‘নেত্রী’ হিসেবেই মান্যতা দিচ্ছেন। তবে দল ভেঙে বেরিয়ে আসার পর বিধানসভায় নতুন এই গোষ্ঠীর ‘বিরোধী দলনেতা’ কে হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন ঋতব্রত ও তাঁর অনুগামীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্দরের এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের জেরে মেইনস্ট্রিম তৃণমূলের ভিত কার্যত নড়ে গেল এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে।




















