কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই জঙ্গলমহল (Jangalmahal)ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। উচ্চ ভোটের হার, বুথের পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে কী বার্তা দিল ভোটাররা, তা নিয়েই এখন বিশ্লেষকদের ব্যস্ততা। অনেকেরই মত, জঙ্গলমহল থেকেই এবার বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর ইঙ্গিত মিলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ এই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তাঁর মতে, জঙ্গলমহল ও ঝাড়গ্রাম অঞ্চলে এবারের ভোটের হার যে মাত্রায় বেড়েছে, তা নিছক সাধারণ ঘটনা নয়। বিকেল ৩টে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়গ্রাম জেলায় ভোটের হার ছিল প্রায় ৮১.০৪ শতাংশ, যা রাজ্যের গড়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই হার আরও বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯০.৫৩ শতাংশে। এই বিপুল ভোটদানকে তারা একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন।
আরও দেখুনঃ ভারতীয় পণ্যে নেপালি শুল্কে নয়া কূটনীতিক চাল ভারতের
তাদের দাবি, এই উচ্চ ভোটদানের হার থেকে বোঝা যাচ্ছে যে বিজেপি সমর্থকেরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বুথমুখী হয়েছেন। যদিও জঙ্গলমহলের অনেক জায়গায় বিজেপির সংগঠনকে এখনও তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করা হয়, তবুও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সেই ধারণাকে কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জ করছে বলে তাঁর মত।
তবে শুধু ভোটের হারই নয়, এবারের নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে ‘প্রক্সি ভোটিং’ কমে যাওয়া। বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে এসেছে যে কিছু এলাকায় শাসকদলের পক্ষ থেকে প্রক্সি ভোটিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়। কিন্তু সজ্জন কুমারের মতে, এবারের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। তাঁর দাবি, প্রক্সি ভোটিংয়ের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ভোটের স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে।
এই পরিবর্তনের পিছনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তা তৈরি করেছে। ফলে অনেকেই ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পেরেছেন। বিশেষ করে অতীতে অশান্তির ইতিহাস রয়েছে এমন এলাকাগুলিতে এই প্রভাব আরও বেশি করে চোখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জঙ্গলমহল বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানে নানা সময়ে সংঘর্ষ, অশান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা গিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ এবং রেকর্ড ভোটের হার অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাগুলিতেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই বিশ্লেষণকে এখনও সতর্কতার সঙ্গে দেখছে। তাঁদের মতে, উচ্চ ভোটদানের হার মানেই নির্দিষ্ট কোনও দলের পক্ষে ফল যাবে, এমনটা বলা এখনই ঠিক নয়। ভোটারদের মনোভাব অনেক সময় অপ্রত্যাশিত দিকেও মোড় নিতে পারে। তাই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে এই ধরনের বিশ্লেষণকে সীমিত গুরুত্ব দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।




















