ভারত-নেপাল সীমান্ত ঘিরে সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। (India Nepal customs)নেপাল প্রশাসন ভারত থেকে কেনা ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্যের ওপর কাস্টমস ডিউটি বা ‘ভনসার’ আরোপ করার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার অত্যন্ত সংযত ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বজায় রাখার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নেপালের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য চোরাচালান রোধ করা। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, সীমান্ত দিয়ে ব্যক্তিগত ব্যবহারের নামে বড় পরিমাণে পণ্য নিয়ে গিয়ে পরে তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই নেপাল সরকার নতুন করে শুল্ক কাঠামো কঠোর করেছে। এপ্রিল ২০২৬-এর মাঝামাঝি, নেপালি নববর্ষের সময় থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এখন ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্যের ক্ষেত্রে ৫% থেকে ৮০% পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হচ্ছে, যেখানে আগে ছোটখাটো কেনাকাটায় কোনও শুল্ক লাগত না।
আরও দেখুনঃ যোগ্যতার মান বাড়ানো হল প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিমের, কারা আবেদন করতে পারবেন জানুন
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সীমান্তবর্তী বাজারগুলিতে। নেপালের বীরগঞ্জ থেকে শুরু করে ভারতের ধারচুলা, দার্জিলিং ও বিহারের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা সব জায়গাতেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন বহু নেপালি ক্রেতা ভারতীয় বাজারে এসে কেনাকাটা করতেন, এখন সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাঁদের বিক্রি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। অনেক দোকানেই দিনের পর দিন ক্রেতার দেখা মিলছে না। এর জেরে আর্থিক চাপ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের খবরও সামনে এসেছে, যেখানে মানুষ এই নতুন শুল্ক নীতির বিরোধিতা করছেন।
তবে এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নেপাল সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। ভারতের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত মূলত অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান ঠেকানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও নেপালের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্ত এবং গভীর সামাজিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকায় এই ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব অনেক বিস্তৃত হয়। তাই যেকোনও নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের শান্ত ও গঠনমূলক মনোভাব এই পরিস্থিতিকে অযথা উত্তপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করছে।




















