মেয়রহীন বিধাননগর, প্রশাসকের হাতেই চলবে পুরসভার কাজ

রাজ্যের একের পর এক পুরবোর্ডে অস্থিরতার আবহের মধ্যেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন (Bidhannagar Municipal Corporation)  দফতর। বিধাননগর পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Bidhannagar Municipal Corporation Placed Under Administrative Control

রাজ্যের একের পর এক পুরবোর্ডে অস্থিরতার আবহের মধ্যেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন (Bidhannagar Municipal Corporation)  দফতর। বিধাননগর পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। সম্প্রতি বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর থেকেই পুর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই জল্পনার মধ্যেই প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিধাননগর পুরসভার(Bidhannagar Municipal Corporation)  কমিশনারকেই প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ছয় মাসের জন্য এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে যদি তার আগেই নতুন বোর্ড গঠিত হয়, তাহলে প্রশাসকের দায়িত্বের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাবে। বিধাননগর পুরসভা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক সংস্থা। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প, (Bidhannagar Municipal Corporation)  আবাসন প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামোর জন্য এই এলাকার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে পুরসভার প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। মেয়রের পদত্যাগের পর পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

   

বিধাননগরের বাসিন্দাদের কাছেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পুরসভার মাধ্যমে এলাকার রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার কাজ পরিচালিত হয়। নির্বাচিত বোর্ড না থাকলে প্রশাসনিক কাজকর্মে যাতে কোনও জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য কমিশনারের হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদলের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, একের পর এক পুরবোর্ডে সমস্যার সৃষ্টি হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন হওয়া প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নেতৃত্ব। দলের বক্তব্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক মাসের দিকে। নতুন বোর্ড গঠন কত দ্রুত সম্ভব হয় এবং প্রশাসকের নেতৃত্বে পুরসভার কাজ কতটা সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলে, সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত বিধাননগর পুরসভার সমস্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব কমিশনার তথা নবনিযুক্ত প্রশাসকের হাতেই থাকছে। ফলে শহরবাসীর দৈনন্দিন পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির গতি বজায় রাখা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিধাননগর পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আগামী দিনে নতুন বোর্ড গঠন এবং পুর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরা।

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google