অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জগদীপ ধনকড়

ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)অসুস্থ হয়ে দিল্লির এইমস (AIIMS)-এ ভর্তি হওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সপ্তাহান্তে পরপর দু’বার জ্ঞান হারানোর পর সোমবারই তাঁকে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
jagdeep-dhankhar-admitted-aiims-health-update

ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)অসুস্থ হয়ে দিল্লির এইমস (AIIMS)-এ ভর্তি হওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সপ্তাহান্তে পরপর দু’বার জ্ঞান হারানোর পর সোমবারই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংবাদ সংস্থা PTI সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার প্রথমবার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় ৭৪ বছর বয়সি ধনকড়ের। বাথরুমে যাওয়ার পর আচমকাই তিনি জ্ঞান হারান। এরপর কিছু সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ফের অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি।

   

চাকরি হারানোর পরেও কি PF-এর টাকার উপর সুদ পাবেন?

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাঁকে দ্রুত চেকআপের জন্য দিল্লির AIIMS-এ নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষার পর আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন বলে মনে করেন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে তাঁর MRI করানো হতে পারে। ধনকড়ের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এই প্রথম নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ব্ল্যাক-আউট বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল জগদীপ ধনকড়ের। উপরাষ্ট্রপতি থাকাকালীন কচ্ছ, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও দিল্লিতে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে একাধিকবার তাঁর অসুস্থতার খবর সামনে এসেছিল। তখনও চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয় বলে জানা গিয়েছিল।

রাজনৈতিক জীবনে বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন জগদীপ ধনকড়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সংঘাত সর্বজনবিদিত। রাজভবন ও নবান্নের টানাপোড়েন প্রায় প্রতিদিনই খবরের শিরোনামে উঠে আসত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, সাংবিধানিক পদে থেকেও ধনকড় নির্বাচিত সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন এবং প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।

পরবর্তী সময়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েও বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। বিরোধী শিবিরের একাধিক সাংসদ অভিযোগ তুলেছিলেন, সংসদে তাঁদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। সংসদের কার্যপ্রণালি ও বক্তব্য নিয়েও বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েন ধনকড়। এই আবহেই গত বছরের ২১ জুলাই আচমকাই উপররাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তাঁর ইস্তফা ঘিরে তখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়।

বিরোধীদের দাবি ছিল, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও সেই বিষয়ে সরকারি স্তরে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ইস্তফার পর দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান ধনকড়। তিনি কোথায় আছেন, কী করছেন এই প্রশ্ন ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়। বিরোধীরা এই গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সেই সময়ই পেনশনের আবেদন জানান ধনকড়, যা নতুন করে আলোচনা উসকে দেয়।

উপররাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পর খুব কমই জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে গত নভেম্বরে হঠাৎই একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে ফের আলোচনায় আসেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে RSS-এর যুগ্মসচিব মনমোহন বৈদ্যের লেখা একটি বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন ধনকড়। সেখানেই নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রাক্তন উপররাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, “চার মাস পর এখন আর ইতস্তত করার কিছু নেই আমার।” পাশাপাশি আরও একটি মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ধনকড় বলেন, “ঈশ্বর না করুন, ভাষ্যের বেড়াজালে যে কেউ আটকে পড়তে পারেন। একবার চক্রব্যূহে ঢুকে পড়লে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন।”

যদিও পরে তিনি হেসে যোগ করেন, “নিজের উদাহরণ দিচ্ছি না।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দেয় যে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধই হয়তো তাঁর হঠাৎ ইস্তফার মূল কারণ। বর্তমান অসুস্থতার খবর সামনে আসার পর সেই পুরনো বিতর্ক ও প্রশ্ন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google