চলতি বছরের ইস্টার উইকএন্ডকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সন্ত্রাসবাদ। (ISIS Easter weekend)মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাদের অনুসারীদের উদ্দেশে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গির্জা ও সিনাগগে আগুন ধরিয়ে দিতে হবে। এই বার্তাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএস তাদের প্রচারমূলক চ্যানেল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সমর্থকদের ‘লোন উলফ’ হামলার জন্য উস্কানি দিচ্ছে। অর্থাৎ, কোনও সংগঠিত দলের বদলে এককভাবে, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের হামলা আগে থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ, কারণ হামলাকারীকে আগাম শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
আরও দেখুনঃ শত্রুর ঘুম উড়াতে প্রস্তুত ভারতের তৃতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন! নৌসেনায় জুড়ছে ‘অরিধমন’
এই হুমকির কেন্দ্রে রয়েছে খ্রিস্টানদের গির্জা এবং ইহুদিদের উপাসনালয় সিনাগগ। বিশেষ করে ইস্টার উপলক্ষে যখন বিশ্বজুড়ে গির্জাগুলিতে ভিড় বাড়ে, তখন এই ধরনের হামলার আশঙ্কা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একইভাবে, ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিকেও টার্গেট করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বিশ্বের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং ভারত সব জায়গাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইউরোপের কিছু দেশে ইতিমধ্যেই ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। ফলে এই হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ উদ্বেগের কারণ হল, এই হুমকি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ISIS-K-এর মতো আইএসের আঞ্চলিক শাখাগুলিও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার ও বার্তার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন মার্কিন ক্যাপিটল বা বড় ধর্মীয় কেন্দ্রগুলিকে টার্গেট করার আহ্বান জানাচ্ছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও আন্তর্জাতিক রিপোর্টে ভারতের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে বড় গির্জা ও উপাসনালয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উৎসবের সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আইএসের এই কৌশল নতুন নয়। তারা বরাবরই ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে ভয় ও বিভাজন তৈরি করতে চায়। উৎসবের সময় হামলার হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তবে একইসঙ্গে তারা জানে, এই ধরনের হুমকি বিশ্বমাধ্যমে বড় প্রভাব ফেলে এবং তাদের প্রচারও বাড়ে।




















